বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিনন্দন বার্তার ঢল নেমেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের পক্ষ থেকে আসা বার্তাগুলো কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভিনন্দন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে ‘ভাই’ সম্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় আমি আমার ভাই তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।” শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আগামীতে আরও জোরদার হবে। ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদির বিশেষ চিঠি ও ভারত সফরের আমন্ত্রণ এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা ও চিঠি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে ওম বিরলা জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। চিঠিতে মোদি তাঁকে শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওম বিরলা আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা বাংলাদেশের নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই পাকিস্তান ও ভারতের এই সক্রিয় অবস্থান আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে পাকিস্তান যেমন ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ দেখিয়েছে, অন্যদিকে ভারত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়ে এবং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।