সৌদি আরবের দাপ্তরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর ইঙ্গিত থাকলেও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সংশয় ও বিতর্ক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময়ও এই বিতর্ক চরমে পৌঁছেছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন সে সময় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ওই রাতে আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা অসম্ভব। সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রমান দিতে না পারলেও পরদিন ঈদ ঘোষণা করেছিল।
বৈজ্ঞানিক অসম্ভবতা বনাম দাপ্তরিক ঘোষণা ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ জানান, সৌদি আরব প্রায়ই এমন দিনে চাঁদ দেখার দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তিতে চাঁদের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও মাত্র দু-তিনজন ব্যক্তির দাবির ওপর ভিত্তি করে অনেক সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে দেয়।
বিভিন্ন দেশের অনুসরণ ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত বিশ্বের অনেক দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে রমজান ও ঈদ পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে কোনো জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় তারা সৌদিকে অনুকরণ করে। তবে বর্তমানে সেখানকার স্থানীয় স্কলাররা বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর চাঁদ দেখার সংবাদ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস সত্য হলে বুধবারের আগে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।