ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব এআই সম্মেলন। এই আয়োজনের মাধ্যমে ভারত নিজেকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বার্তা দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো কোনো উন্নয়নশীল দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এত বড় পরিসরে বৈশ্বিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের মিলনমেলা এই সম্মেলনে বিশ্বের প্রথম সারির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা অংশ নিচ্ছেন। বক্তাদের তালিকায় রয়েছেন গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই। এ ছাড়া ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিস এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উপস্থিতি সম্মেলনের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত বর্তমানে বৈশ্বিক এআই কোম্পানিগুলোর জন্য ভারত একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো খাতে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই সম্মেলন সেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকার সম্মেলন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সবার কল্যাণ ও সুখ। মানুষের প্রয়োজনে এআই-কে কাজে লাগিয়ে মানবকেন্দ্রিক উন্নতির পথে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই আয়োজন।'
বিশাল আয়োজন ও জনসমাগম নয়া দিল্লির প্রায় ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিশাল কনভেনশন সেন্টার 'ভারত মণ্ডপম'-এ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৭০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে চলা এই আয়োজনে তিনশর বেশি প্রদর্শক তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী সমাগম হবে।