তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ানের আসন্ন ঢাকা সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তার ব্যস্ত কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্কের অব্যাহত সমর্থন ও ভুমিকা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পে অংশগ্রহণ বিলাল এরদোয়ান তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (তিকা) ঢাকা প্রকল্প সমন্বয় অফিস এবং তুরস্ক দূতাবাস পরিদর্শন করবেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিকা-র অর্থায়নে পরিচালিত সংস্কার কাজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রদান প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য যে, তিনি বর্তমানে তুরস্কের ‘জ্ঞান প্রচার ফাউন্ডেশন’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষা ও মানবিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন সফরের দ্বিতীয় দিনে বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং ক্যাম্প-৯ এ অবস্থিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তিকা-র আয়োজিত রোহিঙ্গা ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী এবং এল শিফা মডেল গার্লস স্কুল পরিদর্শনের মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেবেন।
তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে তুরস্কের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে। তিকা-র মাধ্যমে বাংলাদেশে তুরস্কের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত হয়ে আসছে। এই সফরের মাধ্যমে সেই সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।