রমজান মাসকে সামনে রেখে নিম্নআয়ের মানুষের সুবিধার্থে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে। তবে চাহিদার তুলনায় পণ্যের পরিমাণ কম হওয়ায় এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ক্রেতাদের মাঝে।
অপেক্ষার প্রহর ও ক্রেতাদের ক্ষোভ রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে দেখা গেছে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে মানুষের দীর্ঘ সারি। বেলা ১১টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আলেয়া বেগমের মতো অনেক ক্রেতা বিকেল চারটার দিকে টোকেন পেয়েছেন। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকার পর টোকেন পেলেও পণ্য হাতে পেতে তাঁদের আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতা জানান, পণ্য নিতে গিয়ে তাঁদের জোহর ও আসরের নামাজ মিস হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে অসুস্থবোধ করলেও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় স্থান ত্যাগ করছেন না।
টিসিবির পণ্য ও মূল্য তালিকা মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই ট্রাক সেল কার্যক্রম আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে। টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ নিচের পণ্যগুলো কিনতে পারছেন:
- সয়াবিন তেল (২ লিটার): প্রতি লিটার ১১৫ টাকা
- চিনি (১ কেজি): ৮০ টাকা
- মসুর ডাল (২ কেজি): প্রতি কেজি ৭০ টাকা
- ছোলা (১ কেজি): ৬০ টাকা
- খেজুর (আধা কেজি): ১৬০ টাকা
বরাদ্দ বনাম চাহিদা সরকারি সংস্থা টিসিবির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন ৪৫০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকে। কিন্তু লাইনে অপেক্ষা করেন হাজারের বেশি মানুষ। ফলে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও টোকেন না পেয়ে অনেককে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বিশেষ করে চাকরিজীবীরা অফিস শেষ করে এসে কোনো টোকেন পাচ্ছেন না। তারা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
দেশব্যাপী কার্যক্রমের পরিধি টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি পয়েন্টে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি পয়েন্টে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ১৫টি করে এবং বাকি ৫৫টি জেলায় ৫টি করে ট্রাকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। টিসিবির মুখপাত্র মো. শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন, বরাদ্দ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্পটে বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকবে।