দেশের বাজারে স্বর্ণের আকাশছোঁয়া দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘ সময় অস্থির থাকার পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সবশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, ভরিতে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।
স্বর্ণের নতুন দর ও ক্যারেট অনুযায়ী বিশ্লেষণ
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।
অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে:
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায়।
ভ্যাট ও মজুরির হিসাব: ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য
বাজুস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন (Jewelry Design) ও কারুকাজের মানভেদে মজুরির ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত বাজারমূল্য বা ‘Final Price’ নির্ধারণের সময় এই অতিরিক্ত চার্জগুলো গ্রাহকদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
বাজারের গতিপ্রকৃতি ও পরিসংখ্যান
স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালের এই অল্প সময়েই দেশের বাজারে মোট ২৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১১ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের (Global Market Value) অস্থিরতা এবং দেশীয় বাজারে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই ঘনঘন মূল্য পরিবর্তন ঘটছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম
স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আজ মঙ্গলবারও রুপার আগের দামই বহাল রাখা হয়েছে:
২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
স্বর্ণকে বরাবরই নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘Safe Haven’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে যেভাবে ঘনঘন দামের উঠানামা ঘটছে, তাতে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বাজার বিশ্লেষণ (Market Trend) করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ সকাল থেকেই সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে নতুন এই রেট চার্ট কার্যকর রয়েছে।