• ব্যবসায়
  • অর্থশক্তির নতুন মাইলফলক: ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

অর্থশক্তির নতুন মাইলফলক: ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
অর্থশক্তির নতুন মাইলফলক: ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস; আইএমএফ মানদণ্ডেও উর্ধ্বমুখী রিজার্ভের গ্রাফ, শক্তিশালী হচ্ছে দেশের আর্থিক সক্ষমতা।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির (Macro-economy) অন্যতম প্রধান সূচক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে (Foreign Exchange Reserve) ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমানে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে এখন ৩৪ হাজার ৫৩৯ দশমিক ৫০ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উর্ধ্বমুখী রিজার্ভের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক গতির ফলে রিজার্ভের এই উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ (BPM-6) অনুযায়ী, বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন বা ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। উল্লেখ্য, এই পদ্ধতিতে কেবল ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভকেই গণনা করা হয়, যা একটি দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার পরিচায়ক।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৃশ্যমান উন্নতি

রিজার্ভের এই বৃদ্ধি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ধারাবাহিক উন্নতিরই অংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি সিগন্যাল (Signal)।

রেমিট্যান্স প্রবাহ ও তারল্য সংকট নিরসন

অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভের এই উর্ধ্বগতির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স (Remittance Inflow)। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে ১৮১ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় এবং ডলারের বিনিময় হারে নমনীয়তা আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বা লিকুইডিটি (Liquidity) বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানও রিজার্ভ সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিপিএম-৬ পদ্ধতি ও প্রকৃত রিজার্ভের সমীকরণ

সাধারণত একটি দেশের হাতে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুতই হলো গ্রস রিজার্ভ। তবে আইএমএফ-এর ব্যাখ্যামূলক পরিমাপক বিপিএম-৬ অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায় (Short-term Liability) বিয়োগ করলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকেই প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ বলা হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য প্রকাশ করছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী এবং রেটিং এজেন্সিগুলোর কাছে দেশের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি রেমিট্যান্সের এই ধারা এবং রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়, তবে আগামী জুন নাগাদ রিজার্ভের পরিমাণ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। এটি দেশের মুদ্রা বাজারে ডলারের সংকট নিরসনের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Tags: bangladesh bank bangladesh economy economic growth financial stability foreign reserve dollar crisis remittance inflow imf bpm6 macro economy central bank news