হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ওসি এবং উপজেলা বিএনপি সভাপতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড় উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মখলিছুর রহমানের সঙ্গে বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ফোনালাপ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই ফোনালাপের একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার উত্তেজিত হয়ে ওসির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এই কথোপকথনের অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।
ওসির অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, উপজেলা বিএনপি সভাপতির একটি ফোন কল তিনি সময়মতো রিসিভ করতে পারেননি। পরবর্তীতে মখলিছুর রহমানের ফোনের মাধ্যমে ওই নেতা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওসির দাবি, বিএনপি নেতা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে—বাহুবলে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করেই করতে হবে।
বিএনপি নেতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার। তিনি বলেন, “আমি সরাসরি তাকে (ওসি) কল দিয়েছি এমন কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।” পাল্টা অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে ওসির প্রত্যাহার এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
তদন্তের দাবি ভাইরাল হওয়া অডিওটির সত্যতা বা উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ছাড়া এই অডিওর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।