• বিনোদন
  • সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: চিরবিদায় নিলেন সালসা সংগীতের প্রাণপুরুষ উইলি কোলন

সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: চিরবিদায় নিলেন সালসা সংগীতের প্রাণপুরুষ উইলি কোলন

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: চিরবিদায় নিলেন সালসা সংগীতের প্রাণপুরুষ উইলি কোলন

ল্যাটিন সংগীতের জাদুকর ও ৮ বার গ্র্যামি মনোনীত এই কিংবদন্তির জীবনাবসানে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া; ৭৫ বছরে থামল বর্ণাঢ্য এক সুরের যাত্রা।

বিশ্ব সংগীতের মানচিত্রে ল্যাটিন সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেওয়া এক অবিসংবাদিত নাম উইলি কোলন (Willie Colón)। আমেরিকার নিউইয়র্কের রাজপথ থেকে উঠে আসা এই সালসা (Salsa) সংগীতের অগ্রদূত আর নেই। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই সুরসম্রাট। তার প্রয়াণে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্ত ও সংগীতানুরাগীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ বিদায় ও পারিবারিক শোক

মার্কিন বিনোদন সাময়িকী 'ভ্যারাইটি' (Variety)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী বার্ধক্যজনিত কারণে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। শিল্পীর পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো তিনি পরিবারের সান্নিধ্যেই কাটিয়েছেন এবং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিয়েছেন। শোকের এই কঠিন সময়ে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে কোলন পরিবার।

ব্রঙ্কস থেকে বিশ্বমঞ্চ: এক বিস্ময়কর উত্থান

১৯৫০ সালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে জন্মগ্রহণ করেন উইলি কোলন। শৈশব থেকেই সুরের মায়াজালে বন্দি ছিলেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তার প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে ‘এল মালো’ (El Malo) নামক অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে। সেটি ছিল এক দীর্ঘ এবং গৌরবময় যাত্রার শুরু। ল্যাটিন আমেরিকান রিদম আর জ্যাজ মিউজিকের সংমিশ্রণে তিনি এমন এক ধারা তৈরি করেছিলেন, যা সালসা সংগীতকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার বিখ্যাত গান ‘চে চে কোলি’ (Che Che Colé) আজও সালসা সংগীতের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক (Milestone) হিসেবে স্বীকৃত।

বহুমাত্রিক প্রতিভা: কেবল গায়ক নন, একজন দক্ষ নির্মাতা

উইলি কোলন একাধারে একজন ট্রম্বোনিস্ট (Trombonist), কম্পোজার (Composer), তুখোড় প্রযোজক এবং বাদ্যযন্ত্র বাদক ছিলেন। তার ক্যারিয়ারের পরিসর ছিল বিশাল। ৪০টিরও বেশি অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি, যার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ৮০ লাখেরও বেশি। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ৮ বার মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যামি (Grammy) মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গোল্ড ও প্লাটিনাম রেকর্ড (Platinum Record)।

সংগীতের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি পা রেখেছিলেন অভিনয়ের আঙিনায়ও। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘মিয়ামি ভাইস’ (Miami Vice) এবং ‘দ্য লাস্ট ফাইট’ (The Last Fight)-এর মতো চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

রাজনীতি ও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকা

সংগীতের বাইরেও উইলি কোলন ছিলেন একজন সচেতন নাগরিক এবং সমাজকর্মী। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন বেশ সক্রিয়। ল্যাটিনো কমিউনিটির অধিকার রক্ষায় এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল সোচ্চার। একজন 'সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট' হিসেবে তিনি নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন।

উইলি কোলনের মৃত্যু কেবল একজন সংগীতশিল্পীর প্রয়াণ নয়, বরং একটি যুগের অবসান। ল্যাটিন মিউজিক (Latin Music) এবং সালসা ধারার বিবর্তনে তার অবদান চিরকাল অমলিন থাকবে। তার সৃষ্টি ও সুরের মূর্ছনা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে পৃথিবীর প্রতিটি সংগীতপিপাসু মানুষের হৃদয়ে।

Tags: music legend willie colon salsa music latin music grammy nominee salsa pioneer ny music trombonist world music willie colon death