• আন্তর্জাতিক
  • শুল্ক-যুদ্ধে নতুন মোড়: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বৈঠক স্থগিত

শুল্ক-যুদ্ধে নতুন মোড়: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বৈঠক স্থগিত

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
শুল্ক-যুদ্ধে নতুন মোড়: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বৈঠক স্থগিত

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন করে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের; পরিস্থিতির গভীরতা পর্যালোচনায় প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফর পেছাল নয়াদিল্লি।

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা আচমকা থমকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক (Global Tariff) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করার পর উদ্ভূত আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কৌশলগত পর্যালোচনার স্বার্থে ওয়াশিংটনে পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে ভারত।

আদালতের রায় ও ট্রাম্পের ‘বিকল্প’ পরিকল্পনা

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি), যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে ট্রাম্প যেভাবে আমদানিকৃত পণ্যে ব্যাপক হারে শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। এই রায়কে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তার কাছে বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরদিনই, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেন।

নয়াদিল্লির সতর্ক অবস্থান: কেন পেছালো সফর?

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে ওয়াশিংটনে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের তিন দিনব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই শুল্ক ঘোষণার ফলে সৃষ্ট ‘ট্রেড ওয়ার’ (Trade War) ও আইনি জটিলতা খতিয়ে না দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না ভারত সরকার।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আমাদের বিদ্যমান প্রস্তাবিত চুক্তির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই আইনি ও বাণিজ্যিক সমীকরণগুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফর স্থগিত থাকবে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে আলোচনার নতুন তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।”

প্রস্তাবিত চুক্তির সমীকরণ ও নেপথ্য কারণ

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার জেরে ভারতের বেশ কিছু পণ্যের ওপর ওয়াশিংটন আগে থেকেই ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ আরোপ করে রেখেছিল। এই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেই একটি ‘ইন্টারিম ট্রেড ডিল’ (Interim Trade Deal) বা অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা ছিল এই সফরে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ছাড়ের বিপরীতে ভারত আগামী পাঁচ বছরে ওয়াশিংটন থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই ক্রয় তালিকার মধ্যে ছিল উন্নত প্রযুক্তিপণ্য (Tech Products), জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ এবং মূল্যবান ধাতু।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

চুক্তিটি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই অন্তর্বর্তী চুক্তি স্থগিত করার দাবি তুলেছিল আগেই। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই তড়িঘড়ি করে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি। কংগ্রেসের দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা আলোচনা শুরু করা উচিত।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছিলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো এই সফরে সমাধান হলে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে। তবে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি এবং মার্কিন আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীলতায় নয়াদিল্লি এখন ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় অধিক মনোযোগী হচ্ছে।