• ক্যাম্পাস
  • ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় শহীদ ওসমান হাদি ও ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন

ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় শহীদ ওসমান হাদি ও ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন

মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় ওসমান হাদির সংগ্রাম এবং স্বৈরতন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে আয়নাঘরের প্রভাব নিয়ে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা জানতে চাইল বিভাগ।

ক্যাম্পাস ১ মিনিট পড়া
ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় শহীদ ওসমান হাদি ও ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পর্যায়ের একটি ফাইনাল পরীক্ষায় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং বিতর্কিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন আসায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংকটের প্রেক্ষাপটে উত্তর দিতে বলা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের একটি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লব ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন আসায় বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিভাগীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমান সময়কে অ্যাকাডেমিক আলোচনায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদির উক্তি ও মানবাধিকার বিশ্লেষণ 'পলিটিক্স অ্যান্ড ল: গ্লোবাল অ্যান্ড ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনস, ইন্সট্রুমেন্টস অ্যান্ড ইস্যুজ' শীর্ষক কোর্সের পরীক্ষায় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির দুটি বিখ্যাত উক্তিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন করা হয়। উক্তি দুটি হলো— 'জান দেবো, তবু জুলাই দেবো না' এবং 'আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চাই'। এই উক্তিগুলোর আলোকে মানবাধিকারের জন্য তার সংগ্রামকে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। উল্লেখ্য, ওসমান হাদি নিজেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।

আয়নাঘর ও স্বৈরতন্ত্রের কাঠামো একই পরীক্ষার প্রশ্নে 'আয়নাঘর' প্রসঙ্গটিও স্থান পেয়েছে। একটি 'সিস্টেমেটিক টুল' হিসেবে আয়নাঘর কীভাবে স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা পালন করেছিল, সে বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ চাওয়া হয়। গুম ও বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার এই প্রতীকটি নিয়ে ঢাবির মতো প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক প্রশ্ন আসাকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

শিক্ষকের বক্তব্য ও যুক্তি কোর্সটির পাঠদানকারী শিক্ষক অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদানে বর্তমান সময়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা ভাঙা দরকার। তিনি জানান, জুলাই বিপ্লব, আয়নাঘর এবং ওসমান হাদির আগ্রাসনবিরোধী সংগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে অ্যাকাডেমিক ডিসকোর্সে এনে ছাত্রদের উচ্চতর গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করাই তার মূল লক্ষ্য।

অধ্যাপক শরীফুল আরও যোগ করেন, বর্তমান ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থীই জুলাই বিপ্লবের সামনের সারির যোদ্ধা। তাদের সতীর্থরা প্রাণ দিয়েছে কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এই বীরদের অধিকার আছে নিজেদের তৈরি করা ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা ও চর্চা করার।

বিগত বছরের ধারাবাহিকতা উল্লেখ্য, গত বছরও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একই কোর্সে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আসায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এভাবেই দেশের চলমান রাজনৈতিক বিবর্তনকে পাঠ্যবইয়ের থিওরির সাথে সমন্বয় করার চেষ্টা করছে।

Tags: bangladesh politics july revolution dhaka university osman hadi ayna ghor political-science academic-exams