পরিস্থিতির জেরে আর্জেন্টাইন লিগের নবম রাউন্ডের সব ম্যাচ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। কর ফাঁকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সম্প্রতি আদালত তার বিদেশযাত্রায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও পরে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবুও লিগ কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদস্বরূপ ‘কর্মবিরতি’র পথে হাঁটছে।
দেশটির কর দপ্তরের দাবি, খেলোয়াড় ও কর্মীদের অবসর তহবিল সংক্রান্ত অর্থ আটকে রাখা হয়েছে এবং ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৯ বিলিয়ন পেসো কর পরিশোধ করা হয়নি। অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে এএফএর কার্যালয়সহ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
তাপিয়া সম্প্রতি আদালতের কাছে বিদেশ সফরের অনুমতি চান।
কলম্বিয়ার বারাঙ্কিয়ায় একটি ফুটবল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং পরে ব্রাজিলে কনমেবল বোর্ড সভায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। আদালত ৫০ লাখ পেসো জামিনের শর্তে তাকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছে। তবে আগামী ৫ মার্চ তাকে এবং এএফএর কোষাধ্যক্ষসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলো ৫ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত লিগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি তাপিয়ার প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান জানানোর অংশ।
এএফএ পুরো বিষয়টিকে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সরকার ফুটবল কাঠামো বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অলাভজনক ক্লাবগুলোকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা বর্তমান নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে এএফএ।
তবে সরকারপন্থী আইনপ্রণেতা সিলভানা গিউদিচি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার মতে, আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং ক্লাবগুলোকে ব্যক্তিগত স্বার্থে জিম্মি রাখা উচিত নয়।