এ দাবি করেছে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম। তবে এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত সপ্তাহে এক বৈঠকে কেইন ইরানে হামলার ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন।
সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, মার্কিন সেনাদের হতাহতের আশঙ্কা এবং পর্যাপ্ত গোলাবারুদের ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে, যা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় প্রভাব ফেলতে পারে। অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি লিখেছে, ইরান অভিযানের ব্যাপ্তি ও জটিলতা নিয়ে কেইনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, সামরিক বিকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি বেসামরিক নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
এদিকে অনলাইন পোর্টাল অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে ব্রিফিং দেওয়ার ক্ষেত্রে কেইনই প্রধান সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা তদারকির দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ পাননি।
অ্যাক্সিওসের আরও দাবি, অন্য একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আগ্রাসী অবস্থান নিলেও ইরান প্রসঙ্গে কেইন তুলনামূলক সতর্ক। এক সূত্র তাকে এ বিষয়ে ‘অনিচ্ছুক যোদ্ধা’ বলেও উল্লেখ করেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, কেইন কখনোই ইরানে হামলার বিরোধিতা করেননি। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয়ী হতে পারবে। প্রেসিডেন্টের ভাষায়, যুদ্ধসংক্রান্ত যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ইরান জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন বন্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত তারা মানবে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অনেক দাবি ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।