বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার দিন শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২০ সালের জুনে করোনা মহামারির সময় হুন্ডি বন্ধ থাকায় প্রবাসী আয় বেড়ে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো এই উচ্চতায় উঠেছিল। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভ বৃদ্ধির নেপথ্য কারণ
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং প্রবাসী আয় বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া ধীরে ধীরে আমদানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে পারছে, যা সরাসরি রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে।
প্রবাসী আয় ও ডলার ক্রয়
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে। শুধুমাত্র চলতি মাসেই এখন পর্যন্ত ১৫৩ কোটি ডলার কেনা হয়েছে।
অতীতের রেকর্ড ও বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা
২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের রেকর্ড হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ পাচারের কারণে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে, আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়াই চলতি অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং এই মজুত আরও বাড়তে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিনিয়োগের অভাবে এতদিন ডলারের বহির্গমন কম ছিল। তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় এখন মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়তে পারে। যদি অর্থ পাচার পুরোপুরি বন্ধ রাখা যায় এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়, তবে ভবিষ্যতে ডলার সংকটের সম্ভাবনা কমে আসবে বলে তারা মনে করেন।