দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদানের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতিতে ব্যান্ড সংগীতের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পদক বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
রিকশায় পদক নিয়ে ফেরার সেই মুহূর্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এক অনন্য সাধারণ দৃশ্যের অবতারণা করেন ওয়ারফেজ সদস্যরা। কোনো বিলাসবহুল গাড়ি নয়, বরং সাধারণ মানুষের বাহন রিকশায় চড়ে পদক নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। ব্যান্ডের কিংবদন্তি গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কমল রিকশাচালকের সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। ছবিতে দেখা যায়, তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং সাধারণ জীবনযাপনের প্রতি তাদের এই টান ভক্তদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
বাংলা হেভিমেটালের অগ্রপথিক ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ওয়ারফেজ’ গত চার দশকে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ১৯৯১ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পর থেকেই তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি ক্রেজে পরিণত হয়। ‘একটি ছেলে’ বা ‘বসে আছি’র মতো কালজয়ী গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ইংরেজি গান নির্ভর তরুণ সমাজকে বাংলা হেভিমেটালের দিকে আগ্রহী করার পেছনে এই দলটির অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে।
একুশে পদক ২০২৬-এর অন্যান্য বিজয়ীরা চলতি বছর ওয়ারফেজ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), অভিনয়ে ফরিদা আক্তার ববিতা, এবং শিক্ষায় প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার। সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে ওয়ারফেজ ব্যান্ডের লাইন আপে রয়েছেন দলনেতা টিপু (ড্রামস), পলাশ (ভোকাল), কমল (লিড গিটার), সামির ও সৌমেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই সম্মাননা দিয়ে আসছে।