দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বার্তা দিয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক রাখতে এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগেও যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ছিল, সেই সময়ও একই প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান।
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা দিয়ে দেশটির রাজধানী কাবুলের পাশাপাশি কান্দাহার ও পাকতিকা এলাকায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আসিফ জানান, তারা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধে নেমেছেন। কারণ, ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, এখন প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তালেবান আফগান জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। উল্টো তারা আফগানিস্তানকে ভারতের কলোনি করে তুলেছে এবং সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, তাদের সেনারা আফগান আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেবে।
এক্সে একাধিক পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, পুরো দেশ সেনাদের পাশে আছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ‘গজব লিল হক’ অপারেশন চালাচ্ছে। কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়ায় সামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলা হয়েছে। কাবুলে দুটি ও কান্দাহারে একটি ব্রিগেড সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জাফরি জানান, পাকিস্তান ২৭টি আফগান তালেবান শিবির ধ্বংস করেছে।
৮০টার বেশি কামান ধ্বংস করেছে, নয়জন তালেবান সেনাকে আটক করা হয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানান, বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। তিনি বলেন, রোববারের হামলার জবাবেই এ আক্রমণ।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, দেশের বিদ্রোহী ও পাক সেনাদের আক্রমণের পর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সেনা ঘাঁটির ওপর আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। এই আক্রমণ ডুরান্ড লাইন বরাবর হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দুই হাজার ৬১১ কিলোমিটারের সীমান্তই ডুরান্ড লাইন।