মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিকল্প উৎসের খোঁজে সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সরকার গভীরভাবে চিন্তিত। প্রধানমন্ত্রীকে জ্বালানি মজুতের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি আমদানির জন্য কাতার বা সৌদি আরবের মতো চিরাচরিত উৎসের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
জ্বালানি মজুতের বর্তমান অবস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক হলেও তা খুব বেশি দীর্ঘমেয়াদী নয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুত রয়েছে মাত্র ১২ দিনের। এছাড়া অকটেন ২৯ দিন, পেট্রোল ১৯ দিন এবং জেট ফুয়েলের ১৫ দিনের মজুত আছে। তবে কেরোসিন ও ফার্নেস অয়েলের মজুত তুলনামূলক বেশি। বিপিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, জুন মাস পর্যন্ত পরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো সংকট হবে না, কারণ এগুলো মূলত সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া থেকে আসে। তবে অপরিশোধিত তেলের জন্য সৌদি আরব ও আমিরাতের ওপর নির্ভরতা দুশ্চিন্তার কারণ।
এলএনজি ও এলপিজি খাতে বড় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ। বাংলাদেশের বার্ষিক ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই আসে কাতার থেকে। ওমান থেকেও বড় একটি অংশ আসে। এছাড়া রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি চাহিদার প্রায় পুরোটাই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি কার্গো আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নাজুক হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি দ্রুত সরবরাহ চেইন বহুমুখী করার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে সাগরে থাকা বেশ কিছু জ্বালানিবাহী জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলো থেকে রওনা হতে যাওয়া কনসাইনমেন্টগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।