মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইসরাইলের অধিকৃত সমস্ত ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো (US Military Bases) লক্ষ্য করে ব্যাপক ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড।
হামলার নেপথ্যে চরম প্রতিশোধের সংকল্প ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ (Tasnim News Agency) জানিয়েছে, এই সামরিক পদক্ষেপ মূলত একটি বড় মাপের পাল্টা আঘাত (Retaliation)। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির খবর আসার পর এই আক্রমণ শুরু করে তেহরান।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পেছনে একাধিক উসকানিমূলক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সম্প্রতি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা, যেখানে প্রায় ১৭০ জন নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারান। এই মানবিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার করতেই ইরান তার আধুনিক মিসাইল আর্সেনাল (Missile Arsenal) ব্যবহার করছে।
অকার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার একটি প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঝড়ের মুখে ইসরাইলের গর্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো (Infrastructure) ইরানের ছোড়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত বা নিষ্ক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের যে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা বলয় রয়েছে, তা ভেদ করে ইরানি ওয়ারহেডগুলো (Warheads) সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ভিডিও ফুটেজে সফল আঘাতের প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাতের আকাশ চিরে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে (Strategic Targets) আছড়ে পড়ছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অকার্যকারিতা তেল আবিবের জন্য এক বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যপ্রাচ্য এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দামামা বাজছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা ওয়াশিংটনকে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে ফেলতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির মতো শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর খবর যদি সত্য হয়, তবে ইরানের এই আক্রমণ কেবল শুরু মাত্র। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি ইসরাইল বা তাদের মিত্ররা পুনরায় কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে পরবর্তী আঘাত হবে আরও ভয়াবহ। আপাতত পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে জেরুজালেম ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে।