ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এক পথশিশুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মাহবুবুর রহমান, যিনি পার্শ্ববর্তী পলাশী বাজারে দুধ সরবরাহের কাজ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও আটক ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনের ফুটপাতে। ওই সময় পথশিশুকে লালসা মেটানোর চেষ্টা করতে দেখে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডিকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। ডাকসুর সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি থানায় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান তার অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, 'শয়তানের প্ররোচনায়' পড়ে তিনি এমন কাজ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে কোনো প্রকার শারীরিক আঘাত না করেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আইন ও সভ্য সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
আইনি জটিলতা ও ক্ষোভ ঘটনাটি হাতেনাতে ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সর্ব মিত্র চাকমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ধর্ষণচেষ্টার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই ও মামলার খরচ চালানোর জন্য কোনো বাদী এগিয়ে না আসায় পুলিশ তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলছেন, আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।