• আন্তর্জাতিক
  • ইরানের পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা আমিই ঠিক করব: উত্তাল সংঘাতের মাঝে ট্রাম্পের নজিরবিহীন ঘোষণা

ইরানের পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা আমিই ঠিক করব: উত্তাল সংঘাতের মাঝে ট্রাম্পের নজিরবিহীন ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানের পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা আমিই ঠিক করব: উত্তাল সংঘাতের মাঝে ট্রাম্পের নজিরবিহীন ঘোষণা

বাহরাইনের তেল স্থাপনায় হামলা ও ইসরাইলের ‘চূড়ান্ত আঘাতের’ প্রস্তুতির মধ্যে তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট; পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ল ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন বারুদের তীব্র গন্ধ। ইরান-ইসরাইল সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্ত সংঘর্ষ বা ছায়াযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি একটি আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এই উত্তেজনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ঠিক এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এবং পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তিনি সরাসরি ‘হস্তক্ষেপ’ করতে বা যুক্ত থাকতে চান।

ইসরাইলের ‘পরবর্তী ধাপ’: লক্ষ্য এবার তেহরানের শাসনব্যবস্থা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ‘পরবর্তী ধাপে’ (Next Phase) প্রবেশ করছে। আইডিএফ প্রধানের মতে, এই ধাপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত করা। গত ছয় দিন ধরে ইরানি ভূখণ্ডে বিরতিহীন হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।

উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন ইসরাইলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হবে। এই চরমপন্থী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ‘নিরাপত্তা মানচিত্র’ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পের ‘সাকসেশন’ প্ল্যান ও খামেনি পুত্রের সমালোচনা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান যদি মার্কিন সম্পৃক্ততা ছাড়া তাদের পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের (Succession) চেষ্টা করে, তবে তারা কেবল সময়ের অপচয় করবে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবাকে একজন ‘দুর্বল এবং অগ্রহণযোগ্য’ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানে এমন কোনো নতুন নেতৃত্বকে ওয়াশিংটন স্বীকৃতি দেবে না, যারা আগের নেতৃত্বের ‘রেডিক্যাল’ নীতিগুলো অনুসরণ করবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা সরাসরি ‘রেজিম চেঞ্জ’ (Regime Change) বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে দেখছেন।

তেহরানের পাল্টা হুঙ্কার: ‘প্ল্যান-বি’ ব্যর্থ হবে ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন মন্তব্যের পর চুপ করে থাকেনি ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ নীতি এবং কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র কোনোটিই সফল হবে না। আরাঘচি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘প্ল্যান এ’ অর্থাৎ সরাসরি সামরিক বিজয়ের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ‘প্ল্যান বি’ আরও শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হবে।

বিশ্লেষণ: জ্বালানি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা যুদ্ধ সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে (Energy Market) নিজেদের প্রভাব ও মারণক্ষমতা জানান দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বা ‘মার্কেট ভ্যালু’ (Market Value) অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ইচ্ছা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ‘স্ট্র্যাটেজিক ইন্টারেস্ট’ (Strategic Interest) রক্ষা এবং একটি অনুগত সরকার বসানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল সম্মুখ যুদ্ধ নয়, বরং সাইবার অ্যাটাক এবং গোয়েন্দা তথ্য বা ‘ইন্টেলিজেন্স’ (Intelligence) বিনিময় এই সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণ করবে। মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

Tags: middle east donald trump energy crisis geopolitics regime change israel war global security iran conflict succession plan military update