• রাজনীতি
  • ‘ক্ষমতায় বসে গেছি ভাববেন না’: নেতাকর্মীদের কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়ে দায়িত্ব মনে করিয়ে দিলেন ইশরাক হোসেন

‘ক্ষমতায় বসে গেছি ভাববেন না’: নেতাকর্মীদের কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়ে দায়িত্ব মনে করিয়ে দিলেন ইশরাক হোসেন

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘ক্ষমতায় বসে গেছি ভাববেন না’: নেতাকর্মীদের কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়ে দায়িত্ব মনে করিয়ে দিলেন ইশরাক হোসেন

দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের পর অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় সংযত আচরণের ডাক; দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতাকর্মীদের অতি-উৎসাহী বা অপেশাদার আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন ও ‘Fascist’ শাসনব্যবস্থার অবসানের পর জনগণের মনে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে জড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পুরান ঢাকার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক বিশেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জনগণের আমানত রক্ষা করতে হবে’ ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিএনপি আজ সরকার গঠন করেছে এবং আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা ক্ষমতায় বসে গেছি—এই ‘Status Quo’ মানসিকতা পরিহার করতে হবে। জনগণের ভোট আমাদের কাছে একটি আমানত, আর সেই আমানত রক্ষা করতে হলে আমাদের প্রতিটি ‘Action Plan’ হতে হবে জনমুখী।”

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘Zero Tolerance’ নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না যাতে জনগণের মনে কষ্ট তৈরি হয় বা দলের ‘Brand Image’ নষ্ট হয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের সরকার যেভাবে অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, বর্তমান সরকার তার বিপরীতে একটি স্বচ্ছ ‘Financial Accountability’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

পুরান ঢাকার আধুনিকায়ন ও নাগরিক সেবা পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে এলাকার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলেন ইশরাক। জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট ও দূষণকে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনের জন্য এখনই আমাদের ‘Groundwork’ শুরু করতে হবে। জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হলে তাদের নাগরিক সমস্যার সমাধান দিতে হবে।”

তিনি সরকারের নতুন কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানান, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের নারী সদস্যদের জন্য খুব শীঘ্রই বিশেষ ‘Family Card’ প্রদান করা হবে। এছাড়া ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসনে ‘Metro Rail’ ও বাসের সমন্বয়ে একটি ‘Integrated Transport System’ তৈরির পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বর্ষা মৌসুম আসার আগেই জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মশার প্রজনন রোধে সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসকের অধীনে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান ইশরাক হোসেন। তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইদুর রহমান মিন্টু, বংশাল থানা বিএনপির আহ্বায়ক তাজ উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত হন যে, গণতান্ত্রিক এই নতুন যাত্রায় প্রতিটি কর্মীকে একজন ‘Public Servant’ বা জনসেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

Tags: zero tolerance tarique rahman bangladesh politics family card good governance metro rail bnp news urban development public mandate ishraq hossain