• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সক্ষম ‘মিনিটম্যান-৩’; ওয়াশিংটনের এই শক্তি প্রদর্শন কি কেবলই ‘রুটিন চেক’ নাকি তেহরানের জন্য প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদের গন্ধে ভারী, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে গগনবিদারি গর্জনে উড়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মিনিটম্যান-৩’ (Minuteman-III)। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাত এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার আবহে পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী একে একটি ‘নিয়মিত পরীক্ষা’ হিসেবে দাবি করছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ওয়াশিংটনের এক রণকৌশলগত শক্তি প্রদর্শন হিসেবে।

বিস্ফোরক আবহে ‘মিনিটম্যান-৩’-এর সফল উৎক্ষেপণ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস (Vandenberg Space Force Base) থেকে এই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা ICBM উৎক্ষেপণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের (Air Force Global Strike Command) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কোয়াজালিন প্রবাল প্রাচীরের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি তাদের নিয়মিত মূল্যায়ন কর্মসূচির অংশ এবং এর সাথে বর্তমান বিশ্বের কোনো বিশেষ ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষার সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

কেন একে ‘ডুমসডে’ বা প্রলয়ংকরী ক্ষেপণাস্ত্র বলা হয়? ‘মিনিটম্যান-৩’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতার মূল স্তম্ভ। সামরিক পরিভাষায় একে ‘ডুমসডে’ (Doomsday) বা শেষ বিচারের দিনের অস্ত্র বলা হয় কারণ এটি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক মিনিটের মধ্যে পারমাণবিক আঘাত হানতে সক্ষম। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

দ্রুত প্রতিক্রিয়া: এটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার বা সাইলো থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উৎক্ষেপণ করা যায়।

একাধিক ওয়ারহেড: এই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড (Nuclear Warhead) বহন করতে পারে এবং মহাকাশ থেকে সেগুলো আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম।

নির্ভুল লক্ষ্যভেদ: কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দেওয়ার পরও এটি অবিশ্বাস্য নির্ভুলতার সাথে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।

রুটিন পরীক্ষা বনাম কৌশলগত বার্তা পেন্টাগন একে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা বললেও, ইরানের সঙ্গে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন যখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে, তখন এই পরীক্ষা তেহরানের জন্য একটি শক্তিশালী ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধক বার্তা। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের ওপর আরও জোরালো এবং বিধ্বংসী আক্রমণ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বুঝিয়ে দিল যে, কেবল আকাশপথের প্রথাগত হামলা নয়, বরং প্রয়োজনে চূড়ান্ত পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারের সামর্থ্যও তাদের হাতে রয়েছে।

ট্রাম্পের রণকৌশল ও বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণের জন্য বিশেষ নির্দেশ জারি করেছিল। চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে এবং মার্কিন ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়ে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন ‘মিনিটম্যান-৩’-এর এই সফল পরীক্ষা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল।

তবে এই পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে তেহরানের পাল্টা আঘাতের হুমকি, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এই অতি-উন্নত সমরাস্ত্র প্রদর্শন—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Tags: middle east donald trump us military pentagon defense news global security iran conflict nuclear missile minuteman iii icbm test