হলিউডের আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেতা শিয়া লাবিউফ ফের শ্রীঘরে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স শহরের একটি বারের বাইরে মারামারির ঘটনায় তাকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে নিউ অরলিন্সের বিখ্যাত 'মারদি গ্রাস' উৎসব চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার এলাকার 'রয়েল স্ট্রিট ইন অ্যান্ড আর' বারের সামনে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন লাবিউফ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে ঘুষি মারেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
গুরুতর অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ আদালতে পেশ করা অভিযোগে বলা হয়েছে, লাবিউফ মারধরের সময় সমকামীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অভিনেতা এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন এবং অন্য একজনের মুখে সজোরে ঘুষি মারছেন। এই হামলায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার তাকে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনজীবীর ভাষ্য ও আত্মসমর্পণ শিয়া লাবিউফের আইনজীবী সারাহ চেরভিনস্কি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর পাওয়ার পরপরই অভিনেতা স্বেচ্ছায় ওরলেনস পারিস কারাগারে আত্মসমর্পণ করেন। আইনজীবীর দাবি, তারকা হওয়ার কারণে তার মক্কেলের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একই ঘটনার জন্য সাধারণ কাউকে এত বেশি জামানত দিয়ে দুবার জেল খাটতে হতো না। তিনি বিশেষ সুবিধা চান না, তবে জনপরিচিত ব্যক্তি হওয়ার কারণে তাকে যেন হয়রানি না করা হয়।”
পূর্বের বিতর্ক এটিই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার বিশৃঙ্খল আচরণ এবং আইনি জটিলতার কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছেন এই ‘ট্রান্সফরমারস’ তারকা। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দোষ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। পুরো বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।