দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ১২ মার্চ বেলা ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা রয়েছে।
বিরোধী দলের রণকৌশল ও প্রস্তুতি বিরোধী দলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, তারা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায়। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা বা 'ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম' সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য ও আমলারা বাজেট আলোচনা, স্থায়ী কমিটির কাজ এবং সংসদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে নতুন এমপিদের ধারণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জামায়াতের ৮০ শতাংশ সংসদ সদস্যই এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
আলোচনায় থাকবে যেসব ইস্যু বিরোধী দলের মূল লক্ষ্য থাকবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। বিশেষ করে:
- আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা: দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
- নির্বাচনে অনিয়ম: ৩০টি আসনে ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে 'রাজসাক্ষী' হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলবে তারা।
- জুলাই সনদ ও গণভোট: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট বাতিলের রিট নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানানো হবে।
- অর্থনৈতিক সংকট: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সরব থাকবে বিরোধী বেঞ্চ।
পাল্টা প্রস্তুতি সরকারি দলের বিরোধী দলের এই সম্ভাব্য 'চাপ' মোকাবিলায় সরকারি দল বিএনপিও প্রস্তুতি নিয়েছে। সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডন করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদকে কার্যকর রাখতে তারা যে কোনো গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংসদ হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত। বিরোধী দল যদি ঐক্যবদ্ধভাবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সরব থাকে, তবে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রায় ১৫০ জন নতুন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এই অধিবেশনটি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।