• দেশজুড়ে
  • খুনের পর বিছানায় আগুন, তবুও শেষ রক্ষা হলো না আইনজীবীর: জামালপুরে চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যাকাণ্ড

খুনের পর বিছানায় আগুন, তবুও শেষ রক্ষা হলো না আইনজীবীর: জামালপুরে চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যাকাণ্ড

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
খুনের পর বিছানায় আগুন, তবুও শেষ রক্ষা হলো না আইনজীবীর: জামালপুরে চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যাকাণ্ড

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা; ঘাতক স্বামী হোসেন তাইফুর এখন শ্রীঘরে।

জামালপুর পৌর শহরে এক আইনজীবীর হাতে তাঁর সহধর্মিণী খুনের ঘটনায় শিহরণ জেগেছে জনমনে। কেবল হত্যাই নয়, আইনের রক্ষক হয়েও অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলতে (Crime Scene Manipulation) বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস পথ বেছে নিয়েছেন অভিযুক্ত হোসেন তাইফুর। তবে প্রতিবেশীদের সতর্কতা ও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। বর্তমানে অভিযুক্ত এই আইনজীবীকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গভীর রাতে নৃশংসতা ও ‘অগ্নিকাণ্ড’ নাটক

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া দড়িপাড়া মন্ডলবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের (Domestic Dispute) জেরে স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তাইফুর। হত্যার পর ঘটনাটিকে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য শয়নকক্ষের বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এতে তানিয়ার মরদেহের একটি হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

ঘর থেকে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তানিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পাশের কক্ষ থেকেই নির্লিপ্ত অবস্থায় ঘাতক স্বামী তাইফুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আইনগত ব্যবস্থা ও ফরেনসিক পর্যবেক্ষণ

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে নিহতের ছোট ভাই আবু সাঈদ তৌকির বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর বোনকে হত্যার পর মরদেহ গুম ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছিল। অপরাধ বিজ্ঞানের (Criminology) ভাষায়, এটি একটি পরিকল্পিত ‘কভার-আপ’ প্রচেষ্টা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “আবু সাঈদ তৌকিরের দায়ের করা মামলায় তানিয়াকে হত্যা এবং আলামত নষ্টের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত হোসেন তাইফুরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

১৫ বছরের সংসার ও করুণ পরিণতি

নিহত তাহমিনা আক্তার তানিয়া ও ঘাতক তাইফুর সম্পর্কে ফুফাতো-মামাতো ভাই-বোন ছিলেন। ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। দেড় দশকের এই দাম্পত্য জীবনের এমন বীভৎস সমাপ্তি জামালপুর আইনজীবী সমিতিসহ স্থানীয় সুধী সমাজে গভীর শোক ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। তানিয়ার বাপের বাড়ি মুকুন্দবাড়ি এলাকায় এখন কেবলই মাতম।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের (Post-mortem) প্রাথমিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আগুনের ফলে শরীরের কতটুকু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ কী—তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনের একজন ছাত্র ও পেশাজীবী হয়েও তাইফুরের এমন চরম অপরাধপ্রবণতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Tags: court order bangladesh law domestic violence jamalpur news wife murder family dispute crime scene lawyer arrested arson attempt district jail