• দেশজুড়ে
  • জ্বালানি তেলের বাজারে কড়া নজরদারি: বাঘারপাড়ায় মাঝরাতে ইউএনওর আকস্মিক হানা

জ্বালানি তেলের বাজারে কড়া নজরদারি: বাঘারপাড়ায় মাঝরাতে ইউএনওর আকস্মিক হানা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
জ্বালানি তেলের বাজারে কড়া নজরদারি: বাঘারপাড়ায় মাঝরাতে ইউএনওর আকস্মিক হানা

কৃত্রিম সংকট রুখতে ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঝটিকা তল্লাশি; জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কঠোর বার্তা দিলেন ইউএনও ভূপালি সরকার।

সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার দর নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় অবস্থানে নেমেছে প্রশাসন। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অবৈধভাবে ‘Stock’ বা মজুত রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালি সরকার। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থিত পেট্রোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।

মজুদ ও রসিদ পরীক্ষায় ইউএনওর ‘ঝটিকা মিশন’

অভিযান চলাকালীন ইউএনও প্রতিটি পাম্পের ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকে তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি এবং ‘Supply Chain’ বা সরবরাহ ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট (Artificial Crisis) তৈরি করা যাবে না। পাম্পগুলোতে প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয় রসিদ বা ইনভয়েস (Invoice) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। রসিদ বিহীন কোনো প্রকার কেনাবেচা আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে সতর্ক করা হয়।

‘দেশে কোনো সংকট নেই, গুজব এড়িয়ে চলুন’

অভিযান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউএনও ভূপালি সরকার বলেন, “সরকারের উচ্চ মহলের নজরে এসেছে যে, কিছু অসাধু চক্র তেলের অবৈধ মজুত করে বাজার অস্থির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ‘Press Release’ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যেখানে ফিলিং স্টেশন থেকে সরবরাহ এবং রসিদ প্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।”

তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে বা প্যানিক বায়িং (Panic Buying) করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার কোনো প্রয়োজন নেই। তেলের এই পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে।

কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের হুঁশিয়ারি

অভিযানে ইউএনওর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই কার্যক্রমে পাম্প মালিকদের সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। ইউএনও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ‘Market Manipulation’ বা বাজার কারসাজির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তেলের বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরণের ‘Monitoring’ ও ঝটিকা অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।

যশোরের বাঘারপাড়ার এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত এ ধরণের তদারকি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মুনাফা লাভের সুযোগ পাবে না এবং সাধারণ ভোক্তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

Tags: bangladesh news fuel crisis market manipulation market supply petrol pump uno raid bagharpara news jessore monitoring hoarding prevention fuel station