সোমবার (৯ মার্চ) নিউইয়র্ক ভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর নামে এক আবাসিক এলাকায় শ্বেত ফসফরাস নিক্ষেপের সাতটি ছবির সত্যতা নিশ্চিত করেছে তারা।
এই হামলায় অন্তত দুটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এইচআরডব্লিউ’র লেবানন বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর শ্বেত ফসফরাসের অবৈধ ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। শ্বেত ফসফরাসের দহন ক্ষমতা মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে অথবা এমন গুরুতর জখম করতে পারে যা সারাজীবনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, জনবহুল এলাকায় শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এটি বাছ-বিচারহীনভাবে ক্ষতি করে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো সুযোগ দেয় না। এই রাসায়নিক পদার্থ অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসা মাত্র জ্বলে ওঠে এবং ঘরবাড়ি ও কৃষি জমিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
এইচআরডব্লিউ ইয়োহমোর এলাকায় তোলা বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখেছে, সেখানে অন্তত দুটি এম৮২৫-সিরিজের ১৫৫ মিমি আর্টিলারি প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
এই প্রজেক্টাইলগুলো থেকেই শ্বেত ফসফরাস ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স টিমের প্রকাশ করা ছবিতেও আবাসিক ভবনের ছাদে এবং গাড়িতে আগুন নেভাতে দেখা গেছে। ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে রামজি কাইস বলেন, ইসরায়েলের উচিত অবিলম্বে এই চর্চা বন্ধ করা। এছাড়া যেসব দেশ ইসরায়েলকে শ্বেত ফসফরাসসহ অস্ত্র সরবরাহ করছে, তাদের উচিত দ্রুত সামরিক সহায়তা স্থগিত করা।
উল্লেখ্য, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, সোমবার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির ঘবেয়ারি, হারেত হরিক এবং সাফির এলাকায় দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। চলমান এই সংঘাতের সাম্প্রতিক দিনগুলোয় দেশটিতে অন্তত ৩৯৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির মতো দেশগুলোকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার এবং গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করেছিল ইসরায়েল।
সূত্র: আল জাজিরা