মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ আজ যেন এক ধ্বংসলীলা চলল। তবে সেই ধ্বংসের কারিগর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন গতির রাজা নাহিদ রানা। বুধবার (১১ মার্চ) পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন এই তরুণ ‘Speedster’। তার গতির তোড়ে খাবি খেতে থাকা পাকিস্তান দলের প্রথম পাঁচটি উইকেটের সবকটিই নিজের পকেটে পুরেছেন ‘চাপাই এক্সপ্রেস’ খ্যাত নাহিদ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম ৫ উইকেট বা ‘Fifer’ শিকারের কীর্তি।
গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড পাকিস্তানের ইনিংস মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের শুরু থেকে বল হাতে নিখুঁত ‘Line and Length’ আর এক্সপ্রেস গতির মিশেলে পাক ব্যাটারদের চরম অস্বস্তিতে ফেলেন তিনি। তার প্রতিটি ডেলিভারি যেন ছিল এক একটি মিসাইল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো; দলীয় ৭০ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে সফরকারীরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পতনের প্রথম ৫টি উইকেটই একাই শিকার করেছেন নাহিদ।
ক্যারিয়ার সেরা স্পেল ও বিরল মাইলফলক নাহিদ রানার আজকের বোলিং ফিগার এক কথায় অবিশ্বাস্য। মাত্র ৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৮ রান খরচায় তিনি তুলে নিয়েছেন ৫টি মহামূল্যবান উইকেট (৫-১৮-৫)। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। কেবল উইকেট শিকারই নয়, তার অতিরিক্ত গতি এবং ‘Bounce’ সামলাতে গিয়ে বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানদের মতো বিশ্বমানের ব্যাটারদেরও আজ অসহায় দেখাচ্ছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ১৮তম ওভার পর্যন্ত পাকিস্তানের স্কোরকার্ডে ছিল ১৭.৫-৬৯-৫, যার প্রতিটিই ছিল নাহিদ রানার শিকার।
সহযোগিতায় মিরাজ ও পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় নাহিদের গতির ঝড়ে যখন টপ-অর্ডার বিধ্বস্ত, তখন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে শেষ আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটটি মিরাজের ঝুলিতে জমা পড়লে খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তান। মিরপুরের মন্থর উইকেটেও নাহিদ রানা যেভাবে গতির জাদুতে পাকিস্তানের মিডল-অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, তা বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বমঞ্চে ‘চাপাই এক্সপ্রেস’-এর উত্থান চাপাইনবাবগঞ্জের এই পেসার তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই গতির কারণে আলোচনায় ছিলেন। তবে আজকের পারফরম্যান্স তাকে একজন পরিপূর্ণ ‘Match Winner’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে ব্যাটারদের দাপট বেশি, সেখানে নাহিদ রানার মতো একজন খাঁটি ‘Fast Bowler’-এর উত্থান বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক বিরাট পাওয়া।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এমন রাজকীয় শুরু কেবল নাহিদের ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোর আগে বাংলাদেশ দলের পেস ইউনিটের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। মাঠের দর্শকরা আজ চাক্ষুষ করলেন এক নতুন তারকার জন্মক্ষণ, যার গতির কাঁপুনি আজ অনেকদিন মনে রাখবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।