বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান স্কোয়াডে বাবর আজমের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা। গ্ল্যামার বয় বাবর আজমের মতো মহাতারকাকে ছাড়াই কেন বাংলাদেশে পা রাখল পাকিস্তান? তবে এই বিতর্কের পালে হাওয়া লাগার আগেই মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাবর বা অন্য কোনো সিনিয়র ক্রিকেটারকে দল থেকে ‘Drop’ বা বাদ দেওয়া হয়নি; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
অভিজ্ঞদের ‘বিশ্রাম’ নাকি কৌশলগত পরিবর্তন? সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে পাকিস্তান। ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই সিরিজকে তারা আগামী বছরের ‘ODI World Cup’-এর প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার পরও পাকিস্তান দলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বাবর আজমের পাশাপাশি এই সিরিজে দেখা যাবে না ফখর জামান, হাসিবুল্লাহ খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসিম শাহ এবং সাইম আইয়ুবের মতো তারকাদের। শাহিন আফ্রিদি জানান, এই পরিবর্তনগুলো দলের শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই করা হয়েছে।
তারুণ্যের জয়গান ও ভবিষ্যতের ‘রোডম্যাপ’ অভিজ্ঞদের জায়গায় পাকিস্তান দলে জায়গা করে নিয়েছেন ছয়জন নতুন মুখ। আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ গাজী ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান এবং শামিল হুসেনের মতো ‘Young Talents’-দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সিরিজ শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আফ্রিদি বলেন, “কাউকে দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা শুধু আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিভা দেখানোর সুযোগ দিতে চাই। তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। বিশ্বকাপের আগে একটি শক্তিশালী ‘Back-up Squad’ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ঘরের মাঠে শক্তিশালী টাইগারদের প্রতি সমীহ অধিনায়ক শাহিন কেবল নিজের দলের পরিকল্পনা নিয়েই কথা বলেননি, বরং প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকেও দিলেন যোগ্য সম্মান। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। শাহিন বলেন, “নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশ সবসময়ই বিপজ্জনক। তারা ঘরের মাঠে দারুণ ক্রিকেট খেলছে এবং আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। তবে আমরাও দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা শেষ দুই সিরিজের ‘Momentum’ ধরে রাখতে চাই।”
অভিষেক ও নতুন সমীকরণ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই চারজন পাকিস্তানির ওয়ানডে ‘Debut’ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অভিজ্ঞ বাবর আজমের অভাব এই তরুণরা কতটুকু পূরণ করতে পারেন, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে শাহিন আফ্রিদির কণ্ঠে ঝরে পড়ছে আত্মবিশ্বাস। তার মতে, তরুণদের হাত ধরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এখন দেখার বিষয়, মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে পাকিস্তানের এই ‘Young-side’ বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বহরের সামনে কতটুকু প্রতিরোধ গড়তে পারে। বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে শাহিনের এই ‘Vision’ সফল হয় কি না, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।