টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ের রঙিন উৎসব এখনো কাটেনি। আহমেদাবাদের গ্যালারি থেকে শুরু করে গোটা ভারতে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দুঃসংবাদ পেলেন ভারতীয় পেসার আর্শদীপ সিং। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ (Code of Conduct) বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) তাকে আর্থিক জরিমানা ও শাস্তির আওতায় এনেছে।
মাঠে ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত গত রোববার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। কিউই ইনিংসের ১১তম ওভারে নিজের করা বল ‘ফলো-থ্রু’তে (Follow-through) থামিয়ে স্টাম্প লক্ষ্য করে ছুড়তে চেয়েছিলেন আর্শদীপ। কিন্তু বলটি সরাসরি ব্যাটার ড্যারিল মিচেলের গায়ে আঘাত করে। অথচ মিচেল তখন স্টাম্পের পজিশন থেকে বেশ দূরেই ছিলেন। এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে মিচেল তাৎক্ষণিকভাবে আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ জানান। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এগিয়ে এসে ক্ষমা চান এবং পরবর্তীতে আর্শদীপ নিজেও দুঃখ প্রকাশ করেন, তবে আইসিসির কঠোর নজরদারি থেকে পার পাননি এই বাঁহাতি পেসার।
আইসিসির আইন ও শাস্তির ধরন আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আর্শদীপ সিং আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.৯ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করেছেন। এই ধারায় বলা হয়েছে—আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড়, আম্পায়ার বা ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কারো দিকে অপ্রয়োজনীয় বা বিপজ্জনকভাবে বল কিংবা ক্রিকেট সরঞ্জাম নিক্ষেপ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই ‘লেভেল-১’ (Level-1) পর্যায়ের অপরাধের কারণে আর্শদীপের ‘ম্যাচ ফি’র (Match Fee) ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে একটি ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ (Demerit Point) যোগ করা হয়েছে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটিই আর্শদীপের প্রথম অপরাধ। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই স্তরের অপরাধে সতর্কবার্তা থেকে শুরু করে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং ১ থেকে ২টি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে।
শুনানি ছাড়াই দণ্ড মেনে নিলেন আর্শদীপ মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ, অ্যালেক্স হোয়ার্ফ এবং তৃতীয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকার ও চতুর্থ আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক সম্মিলিতভাবে এই অভিযোগ আনেন। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট শাস্তির প্রস্তাব দিলে আর্শদীপ তা আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বাড়তি কোনো শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
বিশ্বজয়ের মহানায়ক হওয়ার দিনে এমন যান্ত্রিক ত্রুটির মতো শাস্তি আর্শদীপের ব্যক্তিগত রেকর্ডে কিছুটা কালিমালিপ্ত করলেও, মাঠের আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইসিসি যে আপসহীন, এই ঘটনা সেটিই আবারও প্রমাণ করল। ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও ব্যক্তিগত আচরণের ক্ষেত্রে আর্শদীপের এই ১৫ শতাংশ অর্থদণ্ড খেলোয়াড়দের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।