মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট মানেই যেন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা। অতিমাত্রায় স্পিনবান্ধব, মন্থর এবং নিচু বাউন্সের কারণে এই মাঠের উইকেট নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, মিরপুরের এমন ‘নেতিবাচক’ পিচে খেলে সাময়িক জয় এলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় টুর্নামেন্ট বা বিদেশের কন্ডিশনে খাবি খায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের আগে আবারও সেই পুরোনো বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে এবার টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ শোনালেন ভিন্ন সুর। তিনি একইসঙ্গে ভালো উইকেটে খেলার সাহস এবং ‘হোম কন্ডিশন’ (Home Condition)-এর ফায়দা নেওয়ার কৌশলী পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন।
কোচদের সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক আবহ বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সিরিজের তিন ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ। সিরিজের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আজ (১০ মার্চ) মিরাজ জানান, এবার পিচ নিয়ে তারা বেশ আশাবাদী। মজার ব্যাপার হলো, এর আগে বাংলাদেশ সফরে এসে মিরপুরের পিচের কড়া সমালোচনা করা বর্তমান পাকিস্তান কোচ মাইক হেসনও এবার উইকেট দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও উইকেটের বর্তমান অবস্থায় খুশি। অধিনায়কের বক্তব্যেও মিলেছে সেই ইতিবাচক সংকেত।
ভালো উইকেট বনাম হোম অ্যাডভান্টেজ: মিরাজের ভারসাম্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজে স্বাগতিক দল নিজেদের শক্তির কথা মাথায় রেখে উইকেট প্রস্তুত করবে—এটাই বিশ্বক্রিকেটের অলিখিত নিয়ম। মিরাজ এই ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ (Home Advantage) নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এবারের লক্ষ্য স্রেফ রক্ষণাত্মক ক্রিকেট নয়। মিরাজ বলেন, “আমরা অবশ্যই ভালো উইকেটে খেলব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আমরা যেটা করেছি, সেটা ছিল ভিন্ন কৌশল। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে দুর্বল ছিল। কিন্তু এখন আমাদের ব্যাটারদের ‘কনফিডেন্স’ (Confidence) বাড়ানো জরুরি। আমরা চাই ব্যাটাররা ভালো উইকেটে খেলে অনেক রান করুক এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাক।”
লক্ষ্য ২০২৭ বিশ্বকাপ ও আইসিসি র্যাঙ্কিং টাইগার অধিনায়কের এই কৌশলী অবস্থানের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে হলে বাংলাদেশকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের (ICC ODI Ranking) সেরা আটের মধ্যে থাকতে হবে। সেজন্য আসন্ন প্রতিটি সিরিজই বাংলাদেশের জন্য ‘ডু অর ডাই’ মিশন।
মিরাজ বলেন, “বিশ্বকাপের মঞ্চে সাধারণত অনেক ভালো উইকেট থাকে। আমরা এখন থেকেই সেই অভ্যাসটা তৈরি করতে চাচ্ছি। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে আমাদের হাতে অনেকগুলো ওয়ানডে ম্যাচ আছে। আমরা যদি এখন থেকে ভালো উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা নিতে পারি, তবে মেগা টুর্নামেন্টে (Mega Tournament) আমরা সুফল পাব। তবে হ্যাঁ, জেতার জন্য কন্ডিশনের সুবিধাও আমাদের নিতে হবে। হোম কন্ডিশন মানে এই নয় যে আমরা অনেক বাজে উইকেট বানিয়ে ফেলব। ভালো উইকেটে খেলেও জেতা সম্ভব।”
পরীক্ষা যখন মিরপুরে মিরপুরের চেনা মাঠে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাবর আজম ও শাহীন আফ্রিদিদের বিপক্ষে কেবল স্পিন ফাঁদ পেতে জেতা সম্ভব নাও হতে পারে। মিরাজের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বাংলাদেশ এবার স্পোর্টিং উইকেটে খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায়।
আগামীকাল বুধবার প্রথম ওয়ানডেতে যখন দুই দল মাঠে নামবে, তখন সবার নজর থাকবে ২২ গজের আচরণের ওপর। মিরাজের ‘নতুন মন্ত্র’ মাঠের লড়াইয়ে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।