আধুনিক স্থাপত্য ও প্রকৌশল দক্ষতার অনন্য নিদর্শন এই দুটি স্থাপনা আজ শুধু সিডনির নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
সিডনির এই দুটি স্থাপনা প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা এখানে এসে ছবি তোলেন, সমুদ্রপাড়ে হাঁটেন এবং সিডনির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ উপভোগ করেন। অপেরা হাউস. বিশ্ব সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সিডনি অপেরা হাউস অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর একটি। সিডনি হার্বারের বেনেলং পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে ডেনমার্কের স্থপতি জর্ন উটজনের নকশায়।
১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক নকশা প্রতিযোগিতায় উটজনের পরিকল্পনা নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৫৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা নির্মাণকাজ শেষে ১৯৭৩ সালে এই স্থাপনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। অপেরা হাউসের সাদা শেল আকৃতির ছাদ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। দূর থেকে দেখলে এটি অনেকটা সমুদ্রের ঢেউ বা জাহাজের পাল ভেসে থাকার মতো মনে হয়। ভবনের ভেতরে রয়েছে একাধিক কনসার্ট হল ও থিয়েটার যেখানে সংগীত, অপেরা, নাটক ও নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবছর এখানে হাজারের বেশি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এবং লাখ লাখ দর্শনার্থী এই স্থানটি ঘুরে দেখতে আসেন। আধুনিক স্থাপত্যের এই অনন্য সৃষ্টি আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদাও অর্জন করেছে।
হার্বার ব্রিজ সিডনির ইস্পাতের প্রতীক অপেরা হাউসের কাছেই বিস্তৃত হয়ে রয়েছে সিডনি হার্বার ব্রিজ। বিশাল আর্চ আকৃতির এই ইস্পাত সেতু সিডনির দক্ষিণ অংশকে উত্তর উপশহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯২৩ সালে এবং ১৯৩২ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণের সময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত আর্চ সেতু হিসেবে পরিচিতি পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ব্রিজটির উচ্চতা প্রায় ১৩৪ মিটার। এই বিশাল কাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইস্পাত এবং লক্ষ লক্ষ রিভেট।
এর বাঁকানো আর্চ নকশার কারণে স্থানীয়দের কাছে সেতুটি ‘কোটহ্যাঙ্গার’ নামেও পরিচিত।
পর্যটনের বড় আকর্ষণ সিডনি হার্বার এলাকাটি আজ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। পর্যটকেরা অপেরা হাউসের সামনে সমুদ্রপাড়ে বসে দৃশ্য উপভোগ করেন, আবার অনেকেই হার্বার ব্রিজের ওপর উঠে শহরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা নেন।
সিডনি ভ্রমণে আসা ব্রিটিশ পর্যটক অ্যালান ব্রুকস বলেন, এই শহরের সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় হার্বারের সামনে দাঁড়ালে। অপেরা হাউস ও ব্রিজ একসঙ্গে দেখলে মনে হয় যেন শহরটি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
সিঙ্গাপুরের পর্যটক লিম চেন বলেন, অপেরা হাউসের স্থাপত্য সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতিটি দিক থেকে দেখলে নতুন একটি সৌন্দর্য ধরা পড়ে।
সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণ রিয়াদ করিম বলেন, সিডনির ছবি দেখলেই মানুষ এই দুই স্থাপনাকে চিনতে পারে। এগুলো এখন অস্ট্রেলিয়ার পরিচয়ের অংশ।
উৎসব ও উদযাপনের কেন্দ্র সিডনি অপেরা হাউস ও হার্বার ব্রিজকে ঘিরেই শহরের বড় বড় উৎসব ও উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে নতুন বছরের রাতে হার্বার ব্রিজের ওপর আতশবাজির আয়োজন বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
সমুদ্রবন্দরের তীরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা অপেরা হাউস ও হার্বার ব্রিজ তাই শুধু স্থাপত্যের নিদর্শন নয়। এগুলো সিডনির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে অস্ট্রেলিয়ার পরিচয় তুলে ধরছে।