মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে ছুটিতে এসে বাংলাদেশে আটকে পড়া হাজার হাজার প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), ওমান, কাতার ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশ বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও ভিসা নবায়নের সুযোগ ঘোষণা করেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভিসা নিয়ে আর আতঙ্ক নয়: মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস
মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব প্রবাসী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং যাদের ভিসার মেয়াদ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে কিংবা শেষের পথে, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান সংকট নিরসনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এখন থেকে প্রবাসীরা তাদের নিয়োগকর্তা (Employer), স্পন্সর (Sponsor) কিংবা কফিলের (Kafil) মাধ্যমে যোগাযোগ করে সহজেই ভিসা নবায়ন (Visa Renewal) করতে পারবেন। আধুনিক ডিজিটাল ডিসকোর্সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রে এই আবেদন অনলাইনে করার সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ছে মেয়া: তিন দেশের বড় ঘোষণা
আটকে পড়া কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর দিয়েছে কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। এই তিন দেশ মানবিক দিক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি ‘Automatic Extension’ পলিসি গ্রহণ করেছে। যেসব কর্মীর ‘Entry Visa’-র মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শেষ পর্যায়ে, তাদের ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও এক মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাড়তি কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই তারা কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ পাবেন।
কূটনৈতিক তৎপরতার বড় সাফল্য
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরান-ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ‘Regional Instability’ বা আঞ্চলিক উত্তেজনার ফলে আকাশপথে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় প্রবাসীরা সময়মতো ফিরতে পারছিলেন না। এই গভীর সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা (Diplomatic Efforts) চালানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের এই সময়োচিত হস্তক্ষেপের ফলেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রবাসীদের সহায়তায় এই মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে, যাদের ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তাদের অবিলম্বে নিজ নিজ নিয়োগকর্তা বা কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশের মাটিতে কর্মসংস্থান ও বসবাসের বৈধতা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই সফল দরকষাকষির ফলে হাজারো প্রবাসীর কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি দূর হলো, যা দেশের রেমিট্যান্স (Remittance) প্রবাহ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।