নির্বাচন ও কাউন্সিলের প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই এবং নিঃসন্দেহে তা চলতি বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।” বিএনপির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৬ সালের পর দলের আর কোনো কাউন্সিল হয়নি। তবে এবার বছরের শেষ নাগাদ কাউন্সিল করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে শিগগিরই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সরকার ও দলের সমন্বয়
সরকার গঠনের পর দল ও প্রশাসন একীভূত হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব বলেন, সরকার এবং দলের কাজ আলাদাভাবে চলবে। গত এক মাসে সরকার গঠনে ব্যস্ত থাকায় দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রশাসনিক দায়িত্বে চলে এসেছেন, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে নেই, বরং তা নতুন উদ্যমে সাজানো হচ্ছে।
বৈশ্বিক সংকট ও আগাম প্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেলের বাজারের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই কোনো না কোনো বৈশ্বিক সংকট সামনে আসে। তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, যার ফলে দেশে এখনো তেলের দাম বাড়াতে হয়নি।” এ ছাড়া গার্মেন্টস সেক্টরের অস্থিরতা রোধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় এবার বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ
সংবিধান সংস্কার পরিষদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয়ে আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যেসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি, সেখান থেকে এক চুলও নড়ব না। তবে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।” দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র সুসংহত করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।