দেশের বাজারে স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টানা চতুর্থবারের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ চার দফায় স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ১৫ হাজার ৮০৫ টাকা হ্রাস পেয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকেই সারাদেশে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর হয়েছে।
এক নজরে স্বর্ণের নতুন বাজার দর
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এই 'Market Value' হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জুয়েলারি শিল্পে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের বর্তমান দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। এর আগে এটি ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। অর্থাৎ, এক লাফে ভরিতে কমেছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকায় কেনা যাবে।
টানা পতনের নেপথ্যে ও পরিসংখ্যান
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১০ বারের মূল্য সমন্বয়ে ৬ বারই স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৪ মার্চের পর থেকে চার দফায় যেভাবে দাম কমলো, তা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় 'Price Drop'। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১৮ বার কমেছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে রেকর্ড ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার সিংহভাগই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
রুপার দামেও বড় সংশোধন
স্বর্ণের পাশাপাশি এবার রুপার বাজারেও বড় ছাড় মিলেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকায় বিক্রি হবে। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য রুপার এই 'Price Adjustment' বিয়ের মৌসুমে বিশেষ স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুয়েলারি শিল্পের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সংকেত
বাজুস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করেই এই 'Dynamic Pricing' করা হচ্ছে। স্বর্ণের দামের এই পতন কেবল সাধারণ ক্রেতাদের জন্যই ইতিবাচক নয়, বরং গয়না তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের দাম যে কোনো সময় আবারও ওঠানামা করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সরকারি ভ্যাট ও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মজুরি (Making Charge) যোগ করে চূড়ান্ত হিসাব করার পরামর্শ দিয়েছে বাজুস।