পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে যান্ত্রিক ঢাকা ছেড়েছিলেন মো. সাগর (২৮)। বাইকের চাকায় মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন প্রিয়জনের কাছে। কিন্তু সেই যাত্রা আর শেষ হলো না। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের রক্তক্ষয়ী এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার প্রাণ।
মর্মান্তিক সেই মুহূর্ত: নগরজালফৈ বাইপাসে বিপর্যয়
নিহত মো. সাগর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বাগানবাড়ি এলাকার মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। সকালের দিকে মোটরসাইকেলটি যখন টাঙ্গাইলের নগরজালফৈ বাইপাস (Bypass) এলাকায় পৌঁছায়, তখনই ঘটে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একটি অজ্ঞাতনামা ‘Heavy Vehicle’ (ভারী যানবাহন) তাকে পেছন থেকে বা পাশ থেকে সজোরে চাপা দেয়। এতে সাগরের মাথা থেঁতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য ও আইনি প্রক্রিয়া
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (SI) মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে সাগর মোটরসাইকেলে করে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। নগরজালফৈ এলাকায় অজ্ঞাত কোনো ভারী যানবাহন তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।” পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক যানটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহাসড়কে ঈদের ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি
প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়েন লাখ লাখ মানুষ। গণপরিবহনের সংকট ও দীর্ঘ যানজট এড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মহাসড়কে বেপরোয়া গতির ‘Highway’ বাস ও ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোট এই বাহনটি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সাগরের মৃত্যু তা আবারও প্রমাণ করল। ‘Road Safety’ বা সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাইকারদের সতর্কতা এবং মহাসড়কে ভারী যানবাহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
সাগরের মৃত্যুতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের বাগানবাড়ি এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে ঈদের আনন্দ বয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধু স্বজনদের আহাজারি। সড়ক দুর্ঘটনার এই ক্রমবর্ধমান মিছিলে একটি প্রাণ কেবল পরিসংখ্যান হয়ে রয়ে গেল, কিন্তু একটি পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠল অপূরণীয় ক্ষতি।