• আন্তর্জাতিক
  • ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পাল্টা চাল: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পাল্টা চাল: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পাল্টা চাল: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া

মার্কিন আদালতের রায়ে চুক্তির আইনি ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় কুয়ালালামপুরের কঠোর অবস্থান; ঝুঁকিতে ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিতের রফতানি বাজার।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় এক ধাক্কা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (Agreement on Reciprocal Trade) শীর্ষক এই চুক্তিটি এখন থেকে সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি বা Legal Validity নেই। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

চুক্তির নেপথ্য প্রেক্ষাপট ও বর্তমান সংকট গত বছরের ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সময়কার সমঝোতা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় তৈরি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ শুল্ক বা Tariff আরোপ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যকে শুল্কমুক্ত (Duty-free) সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিনিময়ে মালয়েশিয়াও মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য Market Access ও বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করে।

তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বাতিল করে দিলে দৃশ্যপট বদলে যায়। আদালতের এই রায়ের ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা ওয়াশিংটনের বাণিজ্য চুক্তিগুলোর আইনি ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই চুক্তি বাতিলের সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

শুল্ক যুদ্ধ ও নতুন অস্থিরতা বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা (Section 122 of Trade Act) ব্যবহার করে মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এই জরুরি অবস্থা আগামী ১৫০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো শুল্ক বসাতে চায়, তবে তা অবশ্যই নির্দিষ্ট খাত (Sector-specific) এবং যৌক্তিক কারণের ভিত্তিতে হতে হবে। শুধুমাত্র সামগ্রিক Trade Deficit বা বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ঢালাও শুল্ক আরোপ গ্রহণযোগ্য হবে না।

মালয়েশীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত। এই বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে:

E&E Sector: বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য।

Commodities: পাম তেল ও রাবারভিত্তিক শিল্প।

Energy: তেল ও গ্যাস রফতানি।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাজারে এই অস্থিরতা মালয়েশিয়ার সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় মালয়েশীয় রফতানিকারকদের আন্তর্জাতিক শ্রমমান (International Labor Standards) এবং পরিবেশগত মান কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অযুহাতে বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মালয়েশিয়ার বার্তার গুরুত্ব মালয়েশিয়ার এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব বাণিজ্যে একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করল। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি মেনে নিয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদানে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে সেই অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো এখন কার্যত অর্থহীন। কুয়ালালামপুরের এই ‘বোল্ড’ সিদ্ধান্ত এখন অন্যান্য দেশকেও নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন Trade Policy-র ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

Tags: donald trump southeast asia global economy tariff war malaysia news market access anwar ibrahim export import trade agreement us trade