ভয়াল ভোরে পর্যটন নগরীতে বিষাদ পাহাড়ের বাঁকে পর্যটন ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল বিষাদে। বান্দরবানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পাহাড়ের খাদে পড়ে গেছে। রোববার (২২ মার্চ) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসে থাকা ৪৩ জন যাত্রীর মধ্যে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা ও স্থানীয়দের উদ্ধার তৎপরতা দুর্ঘটনার পরপরই নিস্তব্ধ পাহাড়ে আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্থানীয় সুয়ালক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে দ্রুত ঘোষণা দিয়ে বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকশ স্থানীয় মানুষ দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের খাদ থেকে পর্যটকদের উদ্ধার করে উপরে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের (Fire Service) একটি বিশেষ টিম উদ্ধার অভিযানে (Rescue Operation) যোগ দেয়।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ গণমাধ্যমকে জানান, বাসের ভেতর থেকে পর্যটকদের বের করে আনা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আহতদের অধিকাংশকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হতে পারে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানিয়েছেন, বাসটিতে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারসহ মোট ৪৩ জন ছিলেন। তারা সবাই গতরাতে ঢাকা থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম এবং ফায়ার সার্ভিস স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত রেসপন্স (Emergency Response) করেছে। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।”
পাহাড়ি পথে চালকদের সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা পার্বত্য জেলাগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকবাহী বাসগুলোর ফিটনেস এবং চালকদের পাহাড়ি পথে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ভোররাতে ঘন কুয়াশা বা ক্লান্তির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তা (Safety Measures) নিশ্চিতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।