মহাসড়কে মধ্যরাতের বিভীষিকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন। রোববার (২২ মার্চ) ভোররাত ৪টার দিকে ফেনীর রামপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। মহাসড়কের সংস্কারকাজ চলায় লেনের সীমাবদ্ধতা এবং চালকদের বেপরোয়া গতির কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যেভাবে ঘটল এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় মহাসড়কের রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী লেনে সংস্কারকাজ চলছিল। ফলে ওই অংশে যানবাহনের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে লেন অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে ‘শ্যামলী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এই সামান্য সংঘর্ষের পর বাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে পেছনে একটি মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু যানবাহন আটকে গিয়ে জটলার সৃষ্টি হয়।
দোয়েল পরিবহনের ‘ঘাতক’ ধাক্কা বিপত্তি ঘটে এর কিছুক্ষণ পর। যানবাহনগুলো যখন দাঁড়িয়ে ছিল, তখন পেছন থেকে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে (High-speed) ধেয়ে আসা ‘দোয়েল পরিবহন’ নামের একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকা জটলার ওপর সজোরে আছড়ে পড়ে। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার এবং একজন সাধারণ যাত্রী। মুহূর্তের মধ্যে ব্যস্ত মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে (Emergency Unit) পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো উদ্ধার করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
মহাসড়কের নিরাপত্তায় প্রশ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে সংস্কারকাজ চলাকালীন পর্যাপ্ত ট্রাফিক সংকেত বা সতর্কতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। সেই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো (Rash Driving) এবং মহাসড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে বিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়াকেও এই দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক বাসটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।