• জাতীয়
  • শোকের স্মৃতি ও জ্বালানি সাশ্রয়: ২৫ ও ২৬ মার্চ দেশজুড়ে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ

শোকের স্মৃতি ও জ্বালানি সাশ্রয়: ২৫ ও ২৬ মার্চ দেশজুড়ে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
শোকের স্মৃতি ও জ্বালানি সাশ্রয়: ২৫ ও ২৬ মার্চ দেশজুড়ে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ

গণহত্যা দিবসের গাম্ভীর্য রক্ষা এবং বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে সরকার

স্মৃতি আর শোকের আবহে শ্রদ্ধা জানানো এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এক অনন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ এবং ২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে এই কঠোর নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির (Press Release) মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

শোকের কালো রাত ও গণহত্যার গভীরতা

২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর রাত। একাত্তরের সেই রাতে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞকে স্মরণের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় ‘গণহত্যা দিবস’। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দিবসের গাম্ভীর্য ও শোকের পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫ মার্চ রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না। ওই রাতে প্রতীকী শ্রদ্ধা হিসেবে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দেশজুড়ে এক মিনিটের ‘ব্ল্যাক আউট’ (Black Out) কর্মসূচিও পালন করা হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধন

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের দিন। সাধারণত এই দিনে লাল-সবুজ আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে পুরো বাংলাদেশ। তবে এবারের প্রেক্ষিত ভিন্ন। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট (Energy Crisis) মোকাবিলায় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধন (Austerity) নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যেই ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, উৎসবের আলোকসজ্জা পরিহার করে এই সঞ্চিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নির্দেশনার আওতায় সব সরকারি-বেসরকারি ভবন

এই নির্দেশনা কেবল রাজধানী ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র দেশে কার্যকর হবে। সচিবালয় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ভবন—সবক্ষেত্রেই এই আলোকসজ্জা না করার নিয়ম মানতে হবে। এর আগে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

উৎসবের ভিন্ন আঙ্গিক

আলোকসজ্জা বন্ধ থাকলেও স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানমালার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এবং সাধারণ দর্শকদের জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে। সরকার মনে করছে, বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়েও স্বাধীনতা দিবসের আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা হৃদয়ে ধারণ করাই বর্তমান সময়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

পরিকল্পিত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় (Energy Management) দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে রাষ্ট্র।

Tags: bangladesh energy crisis home ministry independence day genocide day austerity measures illumination ban march 26