বাঙালির শৌর্য, ত্যাগ আর বীরত্বের মহিমাকে ধারণ করে সমাগত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬। গৌরবোজ্জ্বল এই দিনটি উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (National Parade Square) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর এক বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও চিত্তাকর্ষক ফ্লাই পাস্ট (Flypast)। আগামী ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় শুরু হতে যাওয়া এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো, দেশপ্রেমের এই উৎসবে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষও।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য ও জনসাধারণের প্রবেশের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
বীরত্বের প্রদর্শনী ও আকাশজুড়ে ফ্লাই পাস্ট
২৬ মার্চ সকালের আলো ফুটতেই জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শুরু হবে সশস্ত্র বাহিনীর সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট তাদের পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে। কুচকাওয়াজের সমান্তরালে আকাশজুড়ে চলবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের ‘ফ্লাই পাস্ট’ ও এরোবেটিক ডিসপ্লে (Aerobatic Display)। যান্ত্রিক বহরের শক্তির প্রদর্শনী আর প্যারাট্রুপারদের রোমাঞ্চকর অবতরণ অনুষ্ঠানটিতে যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা। ভিভিআইপি (VVIP) উপস্থিতিতে এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সর্বসাধারণের প্রবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সাধারণত রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর অনুষ্ঠানগুলোতে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও, এবারের স্বাধীনতা দিবসে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইএসপিআর জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত (Open to Public) রাখা হয়েছে। তবে সুষ্ঠু শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা (Security Protocol) বজায় রাখতে প্যারেড স্কয়ারে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রবেশদ্বার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগ্রহী দর্শনার্থীরা প্রবেশের জন্য ২, ৩, ৪, ১০ এবং ১১ নম্বর গেট ব্যবহার করতে পারবেন। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে সাধারণ মানুষকে সময়মতো উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারকে নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা গত কয়েকদিন ধরে নিবিড় মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল সামরিক কুচকাওয়াজই নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চিত্রও বিভিন্ন ট্যাবলোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তোলা হবে।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২৫ মার্চ রাতে ‘গণহত্যা দিবস’ স্মরণে দেশব্যাপী প্রতীকী ব্ল্যাক আউট পালন করা হবে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে ২৬ মার্চ রাতে সরকারি কোনো আলোকসজ্জা থাকবে না। তবে দিনের বেলার এই কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট হবে স্বাধীনতা দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা বাঙালি জাতির গর্ব ও ঐক্যের জয়গান গাইবে।