বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনায় আজ বৈঠকে বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত বিশেষ কমিটি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের (Ordinance) ভবিষ্যৎ কী হবে এবং দেশের আইনি কাঠামোয় সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু, তা যাচাই করতেই আজ শুরু হচ্ছে এই নীতি-নির্ধারণী বিশ্লেষণ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আইনি সংস্কারের পথে বড় পরীক্ষা
গত ১৫ মার্চ স্পিকারের বিশেষ উদ্যোগে গঠিত এই কমিটি বর্তমান সংসদের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উত্তাল সময়ে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যেসব জরুরি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলোকে এখন সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী রূপ দেওয়ার বা বাতিলের সময় এসেছে।
কমিটির মূল লক্ষ্য হলো, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা (Review) করা। কোন আইনগুলো জনস্বার্থে বহাল রাখা প্রয়োজন এবং কোনগুলো বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে সংস্কার বা বাতিলযোগ্য, তা নির্ধারণ করবে এই বিশেষ কমিটি। কমিটির সদস্যদের চুলচেরা বিশ্লেষণের পর একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদীয় বাধ্যবাধকতা ও সময়সীমা
রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশকে বৈধতা দিতে হলে সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই হিসেবে সময় এখন অত্যন্ত সীমিত। এর আগে গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ আলোচনার জন্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ফলে নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবসের আইনি বাধ্যবাধকতা (Legal Binding) পূরণে এই বিশেষ কমিটিকে বেশ দ্রুততার সঙ্গেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশেষ কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর এক ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি (Accountability) নিশ্চিত হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে কমিটির এই বৈঠকটিকে তাই সংসদীয় গণতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ বেলা ১১টার বৈঠকে কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ এবং পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ চূড়ান্ত হতে পারে।
এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশের আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার কর্মকাণ্ডের যে মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে, তা রাষ্ট্র সংস্কারের পথে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।