দেশের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া গতিশীল করতে সার্চ কমিটি বা অনুসন্ধান কমিটি তাদের প্রথম সভায় মিলিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিটির সদস্যরা নির্বাচন কমিশন গঠনের আইনি কাঠামো এবং স্বচ্ছতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সার্চ কমিটির গঠন ও প্রেক্ষাপট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষিতে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের ফলে শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এই শূন্যতা পূরণে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে রাষ্ট্রপতি এই সার্চ কমিটি গঠন করেন। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সদস্য হিসেবে আছেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় প্রথম বৈঠকে মূলত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটি কীভাবে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নামের প্রস্তাব গ্রহণ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাই এই সভার মূল নির্যাস।
নাম প্রস্তাবের প্রক্রিয়া জানা গেছে, সার্চ কমিটি খুব শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। প্রস্তাবিত নামগুলো যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি চূড়ান্ত একটি তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে।
আগামী দিনের প্রত্যাশা নতুন নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা। তাই সার্চ কমিটির প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।