• দেশজুড়ে
  • ভোরের আকাশে ৩১ বার তোপধ্বনি: মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের ‘গান স্যালুট’ জানাল সেনাবাহিনী

ভোরের আকাশে ৩১ বার তোপধ্বনি: মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের ‘গান স্যালুট’ জানাল সেনাবাহিনী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ভোরের আকাশে ৩১ বার তোপধ্বনি: মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের ‘গান স্যালুট’ জানাল সেনাবাহিনী

রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরে আর্টিলারি রেজিমেন্টের তোপধ্বনিতে শুরু হলো স্বাধীনতা দিবসের মূল আনুষ্ঠানিকতা; জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি নিবেদন করা হলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রথম প্রহরে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমানবন্দরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বীর শহীদদের উদ্দেশে বিশেষ ‘গান স্যালুট’ (Gun Salute) প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা।

আর্টিলারি রেজিমেন্টের সেই স্মরণীয় মুহূর্ত

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে যখন পুব আকাশে সূর্যের প্রথম আভা দেখা দেয়, ঠিক তখনই শুরু হয় সেনাবাহিনীর এই বিশেষ সামরিক রীতি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি রেজিমেন্টের (Artillery Regiment) ছয়টি গান বা কামান থেকে একযোগে ৩১ বার তোপধ্বনি করা হয়। কামানের সেই গুরুগম্ভীর গর্জন যেন মুহূর্তেই মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। এই তোপধ্বনি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) রক্ষার শপথ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীক।

রক্তঝরা পথ পেরিয়ে লাল-সবুজের বিজয়

১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল বাঙালি জাতি। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী ‘লিবারেশন ওয়ার’ (Liberation War) বা মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র এবং লাল-সবুজের এই পতাকা। স্বাধীনতা দিবসের এই ভোরে কামানের তোপধ্বনির মাধ্যমে সেই অমর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের চিরস্মরণীয় করে রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জাতীয় চেতনার প্রতিফলন

সেনাবাহিনীর এই ‘গান স্যালুট’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশজুড়ে এক উৎসবমুখর এবং দেশাত্মবোধক আবহ তৈরি হয়। সামরিক এই আনুষ্ঠানিকতা দেখতে ভোরের আলো ফোটার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় এক ধরণের বিশেষ গাম্ভীর্য লক্ষ করা যায়। রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে এই তোপধ্বনি জাতীয় সংহতি ও সামরিক ঐতিহ্যের (Military Tradition) অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তোপধ্বনি শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ছাড়াও দিনব্যাপী সারাদেশে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রান্তে এখন অনুরণিত হচ্ছে বিজয়ের জয়গান।

Tags: dhaka news bangladesh army liberation war independence day national day march 26 gun salute martyrs tribute artillery regiment military honor