• দেশজুড়ে
  • স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে নীল জলরাশিতে মিতালি: পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর কক্সবাজার

স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে নীল জলরাশিতে মিতালি: পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর কক্সবাজার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে নীল জলরাশিতে মিতালি: পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর কক্সবাজার

ঈদ ও মহান স্বাধীনতা দিবসের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরীতে উৎসবের আমেজ; পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতজুড়ে তিন স্তরের বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার এখন যেন এক উৎসবের নগরী। মহান স্বাধীনতা দিবস এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরবর্তী টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ঢল নেমেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে। স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি জুড়ে এখন কেবলই মানুষের পদচারণা। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমিয়েছেন এই 'ট্যুরিজম হাবে' (Tourism Hub)।

উৎসবের আমেজে পর্যটন রাজধানী: সৈকতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

ঈদ আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই মহান স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া সাপ্তাহিক ছুটি—সব মিলিয়ে এক দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ পেয়েছেন পর্যটকরা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে তৈরি হয়েছে এক বিশাল জনসমুদ্র। সব বয়সী মানুষের এই মিলনমেলায় সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে মিশে গেছে পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ মেতেছেন সমুদ্রস্নানে, কেউবা ওয়াটার বাইকে নীল জলরাশি চিরে এগিয়ে যাচ্ছেন অজানায়।

পর্যটকদের উচ্ছ্বাস: ইনানি থেকে হিমছড়ি সর্বত্রই ভিড়

রাজধানীর বাড্ডা থেকে আসা পর্যটক সোহেল রানা তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা সপরিবারে কক্সবাজারে এসেছি। শুধু প্রধান সৈকত নয়, ইনানি এবং হিমছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্যও আমাদের মুগ্ধ করেছে। বুধবার থেকে এসেছি, আরও কয়েকদিন থাকার পরিকল্পনা আছে। ইনানি সৈকতে জেলিফিশ দেখার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ।”

ইফতেখার আলম নামের আরেক পর্যটক জানান, “সুগন্ধা বিচের প্রাণবন্ত পরিবেশ আমাদের খুব টানে। এখানকার প্রতিটি স্পটের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় সৈকতের পরিবেশ এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।” পর্যটকদের এই বিপুল উপস্থিতিতে পুরো সৈকত এলাকা এখন এক ডিজিটাল ক্যানভাসের মতো বর্ণিল হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: সমুদ্রস্নানে তিন স্তরের সুরক্ষা বলয়

লাখো পর্যটকের এই ভিড় সামলাতে এবং তাদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ‘সেফটি ম্যানেজমেন্ট’ (Safety Management) নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং লাইফ গার্ড কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “লাখো পর্যটকের নিরাপত্তায় আমরা তিন স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি (CCTV Surveillance), বালিয়াড়িতে নিয়মিত টহল এবং সাগরের পানিতে বিশেষ বোট নিয়ে আমাদের কর্মীরা অবস্থান করছেন যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. এরশাদ উল্লাহ জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতে একাধিক পুলিশ বক্স এবং মোবাইল টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ডিজিটাল মনিটরিং এবং স্টেশনভিত্তিক টিম সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে।

চাঙ্গা পর্যটন অর্থনীতি: হোটেল-মোটেল ও ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট এখন প্রায় শতভাগ বুকড। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। শুধু আবাসন খাতই নয়, সৈকত সংলগ্ন রেস্তোরাঁ এবং বার্মিজ পণ্যের মার্কেটগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ ‘রেভিনিউ’ (Revenue) অর্জিত হতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রকৃতি আর মানুষের এই মেলবন্ধনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত হয়ে উঠেছে এক অনন্য মিলনমেলা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এই পর্যটন নগরী তার নিজস্ব মহিমায় আবারও প্রমাণ করল কেন এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য।