• খেলা
  • ‘সবাই তাকে বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখতে চায়’: রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে বন্ধু কোয়ারেসমার আবেগঘন বার্তা

‘সবাই তাকে বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখতে চায়’: রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে বন্ধু কোয়ারেসমার আবেগঘন বার্তা

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘সবাই তাকে বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখতে চায়’: রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে বন্ধু কোয়ারেসমার আবেগঘন বার্তা

২০২৬ আসরে কি পূর্ণ হবে সিআরসেভেনের দীর্ঘদিনের অধরা স্বপ্ন? সতীর্থের বিশ্বাস, মহাকাব্যিক এক বিদায়ী মঞ্চের অপেক্ষায় পুরো পর্তুগাল দল ও ফুটবল বিশ্ব।

পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জুটির নাম রিকার্ডো কোয়ারেসমা ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমি থেকে শুরু হওয়া এই বন্ধুত্বের গল্প পার করেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। সময়ের পরিক্রমায় কোয়ারেসমা বুটজোড়া তুলে রাখলেও, ৩৯ পেরিয়ে ৪১-এর দিকে পা বাড়ানো রোনালদো এখনও আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে (Club Football) সমান দাপুটে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোয়ারেসমা তার প্রিয় বন্ধুর ক্যারিয়ারের শেষ অঙ্ক এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে এক আবেগঘন পূর্বাভাস দিয়েছেন।

স্পোর্টিং একাডেমি থেকে বিশ্বমঞ্চ: এক চিরন্তন বন্ধুত্ব

রোনালদো ও কোয়ারেসমার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল একই সমান্তরালে। স্পোর্টিং লিসবনের সেই তরুণ প্রতিভাগুলো আজ বিশ্ব ফুটবলের আইকন (Iconic)। কোয়ারেসমা অবসর নিলেও তার দৃষ্টি এখনও নিবদ্ধ রয়েছে মাঠের লড়াকু রোনালদোর ওপর। কোয়ারেসমার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে রোনালদোর ক্যারিয়ারের ‘লাস্ট ডান্স’ বা শেষ মহড়া। আর এই আসরে পর্তুগাল দলের একমাত্র লক্ষ্য হবে তাদের মহানায়ককে একটি বিশ্বজয়ের শিরোপা দিয়ে বিদায় জানানো।

বয়স কেবল সংখ্যা: ৪১-এও পর্তুগালের তুরুপের তাস

২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদোর বয়স যখন ৪১ হবে, তখনও তিনি দলের জন্য কতটা অপরিহার্য—তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কোয়ারেসমার। তার মতে, রোনালদোর অসাধারণ 'প্রফেশনালিজম' (Professionalism) এবং 'ফিটনেস রেজিম' (Fitness Regime) তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কোয়ারেসমা বলেন, "এটাই সম্ভবত রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। আমরা তাকে শিরোপা জেতাতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত, কারণ রোনালদো আমাদের সঙ্গে আছেন। এটা তার শেষ সুযোগ, এবং আমি নিশ্চিত সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা তাকে এই সোনালি ট্রফি হাতে দেখতে চায়।"

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে শক্তিশালী পর্তুগাল

বর্তমান পর্তুগাল দলটিকে অনেকেই তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা 'স্কোয়াড' (Squad) হিসেবে বিবেচনা করছেন। দলে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা এবং রাফায়েল লিয়াওয়ের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে। কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে পর্তুগালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং 'টিম বন্ডিং' (Team Bonding) বলে দিচ্ছে, ২০২৬ সালে তারা ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। কোয়ারেসমার বিশ্বাস, রোনালদোর নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা এই তরুণ দলকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

মেসি বনাম রোনালদো: শেষ অঙ্কের লড়াই?

২০২৬ বিশ্বকাপ আরও একটি কারণে ফুটবল ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতে মেসি তার অপূর্ণতা ঘুচিয়েছেন। অন্যদিকে, রোনালদোর ট্রফি ক্যাবিনেটে ইউরো কাপ থাকলেও ফিফা বিশ্বকাপের অভাবটা এখনও প্রকট। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ আসর হতে পারে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথের চূড়ান্ত অবসান।

পরিশেষে, রিকার্ডো কোয়ারেসমার এই মন্তব্য কেবল এক বন্ধুর আবেগ নয়, বরং কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মনের কথা। সিআরসেভেনের (CR7) বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি কি বিশ্বজয়ের মহাকাব্য দিয়ে শেষ হবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৬ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ পর্যন্ত।