মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ক্রীড়াঙ্গনে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈরী হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ইরানি অ্যাথলেট বা দল অংশগ্রহণ করবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং ফিফা উভয় সংস্থাই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভেন্যু নিয়ে এএফসি-র ওপর চাপ ইরানি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ ম্যাচও। বিশেষ করে সৌদি আরবে নির্ধারিত ট্রাক্টর এফসি বনাম দুবাইয়ের শাবাব আল আহলির মধ্যকার ম্যাচটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের দাবি, যেসব দেশ তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম, সেখানে তারা দল পাঠাবে না। এএফসি-কে ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ইরান।
বিশ্বকাপ ম্যাচ সরানোর দাবি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা ছিল ইরানের। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে অপারগতা প্রকাশের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান সামরিক উত্তজনার মধ্যে তাদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তারা এই ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিফার অবস্থান ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে চান না, তবে নিরাপত্তা তাদের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন তারা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ইরানের দাবি মেনে ভেন্যু পরিবর্তন করে কি না, নাকি ইরানকে ছাড়াই বিশ্বকাপের আয়োজন এগোবে।
যুদ্ধ এবং রাজনীতির এই টানাপোড়েন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বড় আসরগুলোকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। জেদ্দায় ১৬-২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর ভবিষ্যৎও এখন ঝুলে আছে ইরানের এই সিদ্ধান্তের ওপর।