আফ্রিকান দেশ মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নেমেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফিফা র্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তায় দুই দলের পার্থক্য আকাশ-পাতাল হলেও মাঠের লড়াইয়ে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি। বুয়েন্স আয়ার্সের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২-১ গোলের ঘামঝরানো জয় পেয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচে খর্ব শক্তির প্রতিপক্ষ লিওনেল স্কালোনি এই ম্যাচে মূলত তার দলের গভীরতা এবং নতুন খেলোয়াড়দের যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। প্রথমার্ধে সাইডবেঞ্চে ছিলেন দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখালেও মৌরিতানিয়ার রক্ষণ ভাঙতে আর্জেন্টিনাকে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল দুটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং তরুণ তুর্কি নিকো পাজ।
দ্বিতীয়ার্ধে মেসির প্রত্যাবর্তন ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বৃষ্টির কারণে মাঠ কিছুটা ভারী থাকলেও মেসি তার বাঁ পায়ের জাদুতে বেশ কিছু আক্রমণ শানান। তবে দুর্ভাগ্যবশত তিনি জালের দেখা পাননি। মৌরিতানিয়াও হাল ছাড়েনি, তারা আর্জেন্টিনার রক্ষণে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে একাধিকবার।
পরিসংখ্যান ও সমর্থকদের অসন্তোষ ম্যাচ জিতলেও পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। ৬৪ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও তারা মাত্র ৭টি শট নিতে পেরেছে, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে মৌরিতানিয়া ১১টি শট নিয়ে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রেখেছিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে জর্ডান লেফোর্ট মৌরিতানিয়ার হয়ে একটি গোল পরিশোধ করলে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দেয়। ১১২ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে এমন নড়বড়ে জয় মানতে পারছেন না অনেক ফুটবল প্রেমী।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ ধাপ আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে ১ এপ্রিল ভোরে জাম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে এই জয়টি কষ্টসাধ্য হলেও স্কালোনির জন্য নতুন কৌশল ও খেলোয়াড়দের ফর্ম যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।