অর্থাৎ জাহাজকে আর বহির্নোঙরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না—ঘাটে পৌঁছেই দ্রুত খালাস ও লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন এবং কার্যক্রমের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলেই এ সাফল্য এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেটি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটায় জাহাজজট কমেছে। ফলে জাহাজগুলো বহির্নোঙরে অপেক্ষা না করেই সরাসরি বার্থে ভিড়তে পারছে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি এসেছে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় দুটোই কমেছে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, আগে জাহাজকে কখনো কখনো ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এতে পণ্যের খরচ বেড়ে যেত এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। বর্তমানে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ চালু থাকায় সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ক্রেন, ইকুইপমেন্ট ও ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে দ্রুত কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বন্দরটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এই অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। একই সঙ্গে বন্দরের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প বন্দরগুলোকেও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ ফিরে আসা দেশের বাণিজ্য খাতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, এ ধারা বজায় থাকলে আমদানি-রপ্তানিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঈদের ছুটির মধ্যেও বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হয়। জাহাজ হ্যান্ডলিং অব্যাহত রাখা এবং নিবিড় তদারকির ফলে কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকেনি। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ ভবিষ্যতে স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর পর্যন্ত তা বজায় থাকলেও মাঝখানে কিছু ব্যাঘাত ঘটে। বর্তমানে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে বন্দর।