ভারতীয় চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা প্রকাশ রাজের জীবন ও ক্যারিয়ারের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন তার মা সুভর্ণলতা। তার জীবন ছিল এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, যা প্রকাশ রাজের ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
জীবনযুদ্ধ ও সংগ্রামের গল্প সুভর্ণলতার জীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি হুবলির একটি এতিমখানায় শৈশব কাটান। পরবর্তীতে নার্স হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন এবং উন্নত জীবনের আশায় বেঙ্গালুরুতে চলে আসেন। প্রকাশ রাজের বাবা মঞ্জুনাথ রাইয়ের মদ্যপানের সমস্যার কারণে সংসারের সব দায়িত্ব একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। কঠিন প্রতিকূলতার মাঝেও সন্তানদের সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি আমৃত্যু লড়াই করেছেন।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও পারিবারিক জীবন সুভর্ণলতা ছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী, অন্যদিকে প্রকাশ রাজের বাবা ছিলেন হিন্দু। এই ভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠাই প্রকাশ রাজের উদার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সুভর্ণলতার তিন সন্তানের মধ্যে প্রকাশ রাজ বড়। তার ভাই প্রসাদ রাজও একসময় অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মায়ের এই সংগ্রামী মানসিকতা প্রকাশ রাজের অভিনয় জীবনেও এক বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
পবন কল্যাণের শোক ও শেষ শ্রদ্ধা প্রকাশ রাজের মায়ের মৃত্যুতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পবন কল্যাণের এই শোক বার্তাটি নেট দুনিয়ায় বিশেষভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রোববার বেঙ্গালুরুতেই সুভর্ণলতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
অভিনেতার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশ রাজ তার মায়ের খুবই অনুগত ছিলেন এবং ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে মায়ের দোয়া ও অনুপ্রেরণাকে পরম পাথেয় মনে করতেন। তার প্রয়াণে দক্ষিণী সিনেমা ও বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।